অনুসরণকারী/follow

SOCIAL MEDIA

Translate

রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কাজের চাপে দিশেহারা: মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা প্রধান শিক্ষকের

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: নির্বাচনী সংশোধনী বা ‘SIR’ (Summary Iterative Revision) কাজের প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক প্রধান শিক্ষক। শনিবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে টিটাগড় ঘাটে। প্রাণে বেঁচে গেলেও বর্তমানে তিনি বারাকপুর বি.এন. বসু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আক্রান্ত শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ কায়ামউদ্দিন। তিনি কাঁচরাপাড়া আর.পি. হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং বারাকপুর পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলি হায়দার রোড এলাকার বিএলও (BLO) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে, আজ ছিল SIR সংশোধনীর শেষ দিন। কাজের পাহাড়প্রমাণ চাপ এবং সময়সীমার বাধ্যবাধকতায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি।

এদিন টিটাগড় ঘাট থেকে একটি নৌকায় ওঠেন কায়ামউদ্দিন সাহেব। নৌকাটি মাঝগঙ্গায় পৌঁছালে তিনি হঠাৎ ঝাঁপ দেন। তবে মাঝিদের তৎপরতা এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের প্রচেষ্টায় তাঁকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রথমে তাঁকে শ্রীরামপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বারাকপুর বি.এন. বসু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কায়ামউদ্দিনের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি এই কাজের চাপ নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। বাড়ির লোকেদের সাথেও এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। তিনি অসুস্থ শিক্ষকের খোঁজখবর নেন এবং প্রশাসনিক চাপের তীব্র নিন্দা করেন। বিধায়ক বলেন:

"SIR-এর শেষ মুহূর্তে এসেও কোনো শান্তি নেই। এই শিক্ষককে নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।"

শিক্ষকদের ওপর বিএলও বা অ-শিক্ষকসুলভ কাজের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। এই ঘটনা সেই ক্ষোভকে আরও উসকে দিল। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন কায়ামউদ্দিন সাহেব। প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Video Link --- 


কোন মন্তব্য নেই: