অনুসরণকারী/follow

SOCIAL MEDIA

Translate

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিড়ি চাওয়া নিয়ে বচসা, মদ্যপ সঙ্গীর মারে মৃত্যু প্রৌঢ়ের

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতা: সামান্য একটা বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে বচসা, আর সেই বিবাদের জেরে মারধরের ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাওড়ার আমতার জয়পুর থানার ঝামটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তেলিবেড়িয়া এলাকা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম ভোলা ওরফে সীমন্ত দোলুই বয়স 49)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাগর দোলুই নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাত ১০টা নাগাদ তেলিবেড়িয়া এলাকায় বসে মদ্যপান করছিলেন ভোলা ও সাগর। অভিযুক্ত সাগর পুলিশি জেরায় দাবি করেছে, মদ্যপান চলাকালীন ভোলা তার কাছে একটি বিড়ি চায়। সাগরের কাছে বিড়ি না থাকায় সে দিতে অস্বীকার করে। অভিযোগ, এরপরেই ভোলা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।

গালিগালাজকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, রাগের মাথায় সাগর ভোলাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কিল, চড় ও ঘুষি মারতে থাকে। মারের চোটে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ভোলা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতা ২ নম্বর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাকে ছেড়ে দেন।

সোমবার বাড়ি ফেরার পর ভোলা পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর এলাকায় পৌঁছাতেই বুধবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জয়পুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযুক্ত সাগর দোলুইয়ের একটি মুদিখানার দোকান রয়েছে, অন্যদিকে মৃত ভোলা পেশায় কৃষক ছিলেন।

যখন সাগর ভোলাকে বেধড়ক মারধর করছিল, তখন সেখানে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কেউ সেই সময় বাধা দিতে এগিয়ে আসেননি। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে সবাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে যান।জয়পুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত সাগর দোলুইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সামান্য বিড়ি নিয়ে বিবাদের জেরে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির: পদ্ম শিবিরে প্রাক্তন এনএসজি কর্তা ও কেবিসি বিজয়ী, যোগ দিলেন ক্ষিতি-কন্যাও

 ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই রাজ্যে বড়সড় সাংগঠনিক চমক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। মঙ্গলবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। যার মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য নাম প্রাক্তন এনএসজি (NSG) কর্তা দীপাঞ্জন চক্রবর্তী এবং ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ২০২৫’-এর বিজয়ী তথা প্রাক্তন সিআরপিএফ অফিসার বিপ্লব বিশ্বাস।


এদিন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন নবাগতরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক ডা. শঙ্কর ঘোষও।একই পরিবারে তিন ধারা

যোগদানকারীদের তালিকায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নাম হলো সুশ্রী কস্তুরী গোস্বামী। তিনি বাম আমলের দাপুটে মন্ত্রী তথা প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা। কস্তুরী দেবীর দিদি বসুন্ধরা গোস্বামী বর্তমানে তৃণমূলের কাউন্সিলর। ফলে বাবা ছিলেন বাম রাজনীতির কাণ্ডারি, এক মেয়ে তৃণমূল এবং অন্য মেয়ে বিজেপিতে— একই পরিবারে তিন ভিন্ন মেরুর রাজনৈতিক অবস্থান এখন রাজ্য রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।অন্যদিকে, প্রাক্তন এনএসজি আন্ডারকভার এজেন্ট দীপাঞ্জন চক্রবর্তী এবং সিআরপিএফ-এর অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি বিপ্লব বিশ্বাসকে দলে টেনে বিজেপি ‘সুরক্ষা ও জাতীয়তাবাদ’-এর বার্তাকে আরও সুসংহত করতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এছাড়া দীর্ঘদিনের আরএসএস ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ডা. অক্ষয় বিনজরাজকাও এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।

যোগদান মেলার পাশাপাশি এদিন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে “আঁধারের কত কথা” শীর্ষক একটি বই প্রকাশ করা হয়। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এই বইয়ে রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক প্রামাণ্য দলিল তুলে ধরা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত “মহাজঙ্গলরাজ”-এর স্বরূপ সাধারণ মানুষের সামনে আনতেই এই উদ্যোগ।

রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই যোগদান প্রমাণ করে যে রাজ্যের মানুষ ইতিবাচক পরিবর্তন চাইছেন।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতে, “নতুন সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে।

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

১২৩৩ জনের নিয়োগ কোথায়? সুপ্রিম কোর্টের রায় মানছে না পর্ষদ!"

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পালের পদত্যাগ এবং বকেয়া নিয়োগের দাবিতে সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সল্টলেক। পশ্চিমবঙ্গ NIOS D.El.Ed সংগ্রাম মঞ্চের ডাকে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী এদিন ‘বিকাশ ভবন চলো’ অভিযানে শামিল হন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ না হওয়া এবং বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের অভিযোগে সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা।


আন্দোলনকারীদের প্রধান ক্ষোভ ‘কৌশিক দাস বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, ২০২২-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১২৩৩ জন প্রার্থীকে ৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পর্ষদ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পর্ষদ সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে একটি ‘ব্যর্থতার খতিয়ান’ পেশ করা হয়েছে:

 ১২৩৩ জন যোগ্য প্রার্থীকে নির্দিষ্ট সময়ে নিয়োগ দিতে না পারা।

 মেধার বদলে ট্রেনিং প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণের নতুন নিয়ম তৈরি করা।

: NCTE-এর স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর নিয়মিত টেট পরীক্ষা নিতে ব্যর্থ হওয়া।

 পর্যাপ্ত শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও কম পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রার্থীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ।

"রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ধুঁকছে, আর যোগ্য প্রার্থীরা রাস্তায় বসে আছেন। পর্ষদ সভাপতি কেবল আশ্বাস দিয়েছেন, কাজ করেননি। তাই এক দফা এক দাবি— গৌতম পালের পদত্যাগ।" — সংগ্রাম মঞ্চের এক সদস্য।

আজকের অবস্থান বিক্ষোভ থেকে মূলত দুটি দাবি জোরালোভাবে করা হয়েছে:

১ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ১২৩৩ জন প্রার্থীকে দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান।

২.চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় NIOS D.El.Ed ক্যান্ডিডেটদের ইন্টারভিউতে বসার এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সমান সুযোগ দেওয়া।

এদিন দুপুর থেকেই বিকাশ ভবনের চারপাশ কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের হুমকি দিলেও প্রার্থীরা রাস্তার ওপরই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত বিকাশ ভবনের সামনে উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

Video Link --- 


সব খবর সবার আগে পেতে আজই আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব ও ফলো করুন। পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কলকাতা পুরসভায় ‘তপ্ত’ বাজেট অধিবেশন: ঘাটতি কমিয়ে উন্নয়নের খতিয়ান মেয়রের, ‘হাম্পটি-ডাম্পটি’ বলে কটাক্ষ বিরোধীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য কলকাতা পুরসভার বাজেট পেশ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মেয়রের দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ এই বাজেটে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও ঘাটতি সামাল দেওয়ার দাবি করা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই বিরোধীদের তীক্ষ্ণ আক্রমণ ও হট্টগোলে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরসভার অধিবেশন কক্ষ। বাজেট পেশের ধরুণ থেকে শুরু করে মেয়রের ভাষা— সব কিছু নিয়েই সরব হলেন বিজেপি ও বাম কাউন্সিলররা।


শুক্রবার পেশ করা বাজেটে দেখা যাচ্ছে, গতবারের তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা হলেও কমাতে পেরেছে পুরসভা।
* আয় ও ব্যয়: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫,৭৯১.৪৩ কোটি টাকা এবং ব্যয়ের বরাদ্দ ৫,৯০০২.৪৩ কোটি টাকা।
* ঘাটতি: গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) ঘাটতি ছিল ১১৪.৭২ কোটি টাকা। এবার তা ৩.৭২ কোটি টাকা কমিয়ে ১১১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
* রাজস্ব ও অনুদান: রাজ্য সরকারের অনুদান গতবারের ২,৮৯৭ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৩,১৩০ কোটি টাকা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো রাজস্ব আদায়, যা গত বছরের ১,৬৭১ কোটি থেকে বেড়ে এবার ২,৬৬১.৪৩ কোটিতে পৌঁছেছে (বৃদ্ধি ৯৯০.৪৩ কোটি টাকা)।

বাজেট পেশের সময় ফিরহাদ হাকিম শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন:
১. পরিকাঠামো: জল সরবরাহ, পয়ঃপ্রণালী, সড়ক সংস্কার ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর।
২. কালীঘাট স্কাইওয়াক: ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের সাফল্য উল্লেখ করেন তিনি।
৩. ই-পরিষেবা: নাগরিকদের যাতে সশরীরে পুরভবনে আসতে না হয়, তার জন্য ডিজিটাল পরিষেবায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
৪. সামাজিক প্রকল্প: শহরে নতুন করে ১ লক্ষ ২৭ হাজার মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আওতায় এসেছেন। বর্তমানে কলকাতায় মোট উপভোক্তার সংখ্যা ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার।
৫. সবুজ কলকাতা: শহরকে দূষণমুক্ত রাখতে ‘সবুজ পরিষেবা’ দেওয়ার অঙ্গীকার মেয়রের।
বিরোধীদের তোপ: ‘হাম্পটি-ডাম্পটি’ ও ‘বর্ণপরিচয়’ বিতর্ক
বাজেট পেশের শুরু থেকেই বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন যে মেয়র পরম্পরা ভেঙে বাজেট ভাষণ সম্পূর্ণ না পড়ে ‘জাম্প’ করে পড়ছেন।

বিজেপির ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সজল ঘোষ এই বাজেটকে ‘হাম্পটি-ডাম্পটি বাজেট’ বলে অভিহিত করেন। মেয়র যখন বলেন যে ভাষার বিচারে যেন কারও ওপর অত্যাচার না হয়, তখন সজল ঘোষ মেয়রের বাংলা ভাষা জ্ঞান নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, মেয়রের ‘বর্ণপরিচয়’ বই পাঠ করা প্রয়োজন। এছাড়াও তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের সংসদীয় আচরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূল বাঙালির অস্মিতা নিয়ে কথা বললেও তাদের সাংসদদের আচরণ বাংলাকে লজ্জিত করে।

বাম কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব এই বাজেটকে সম্পূর্ণ ‘নির্বাচনী মুখী’ বলে দাবি করেন। বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তথ্য পেশ করা নিয়ে তিনি আইনি ও নীতিগত প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, মেয়র বাজেট ভাষণ নিয়ম মেনে না পড়ে কেবল বেছে বেছে কিছু অংশ পড়েছেন।

প্রথম দিনেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের দ্বন্দ্বে অধিবেশন কক্ষ ছিল উত্তপ্ত। পরিস্থিতি বিচার করে চেয়ারপারসন মালা রায় এদিনের মতো অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। আগামী ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি ফের বাজেট অধিবেশন বসবে এবং তিন দিনব্যাপী এই আলোচনা চলবে।

Video Link - 


#dinkaalindia #KMCBudget2026 #KolkataMunicipalCorporation #FirhadHakim #KolkataBudget #KMCUpdate #UrbanDevelopment #FiscalDeficit #KolkataNews
#HumptyDumptyBudget #PoliticalTussle #SajalGhosh #OppositionVoice #BJPvsTMC #KMCWarOfWords #PoliticalClash #BengalPolitics
#LaxmiBhandar #DigitalKolkata #GreenKolkata #InfrastructureDevelopment #KalighatSkywalk #EServices #SocialWelfare #KolkataGovernance

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কেন্দ্রীয় ধর্মঘটে উত্তপ্ত ব্যারাকপুর: ব্যাঙ্ক পরিষেবা স্তব্ধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর: কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা ১২ই ফেব্রুয়ারির দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়ল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। সকাল থেকেই ধর্মঘটের সমর্থনে বাম ও সহযোগী সংগঠনগুলির কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় নামেন। ধর্মঘটের জেরে সবথেকে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা।


বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যারাকপুর স্টেশনের সংলগ্ন এলাকা, চিড়িয়ামোড় এবং টিটাগড় সংলগ্ন বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখার সামনে পিকেটিং শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ, বেশ কিছু জায়গায় জোরপূর্বক ব্যাঙ্কের ঝাঁপ ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে টাকা তোলা, জমা দেওয়া বা চেকের কাজের জন্য আসা সাধারণ গ্রাহকরা চরম হয়রানির শিকার হন। অনেক গ্রাহককেই ব্যাঙ্কের গেট থেকে ফিরে যেতে দেখা যায়।পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে কড়া পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও আন্দোলনকারীদের দমানো সম্ভব হয়নি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়ছে। ব্যারাকপুরের দুই হেভিওয়েট নেতার গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর:

অর্জুন সিং (বিজেপি নেতা):

​"এই ধর্মঘট পুরোপুরি জনবিরোধী। জোর করে ব্যাঙ্ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। উন্নয়নের গতি রুখতেই বামপন্থীরা এই নোংরা রাজনীতি করছে। মানুষ এই বন্ধ সমর্থন করে না।"

ভিডিও লিঙ্ক -- 


গার্গী চট্টোপাধ্যায় (সিপিআইএম নেত্রী):

​"কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি এবং শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদেই এই ধর্মঘট। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বন্ধ রেখে আমাদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন। লড়াইতে জেতা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।"​ধর্মঘটের জেরে ব্যারাকপুরের জনজীবন আংশিক ব্যাহত হলেও বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যাঙ্ক পরিষেবা আগামীকালকের আগে পুরোপুরি সচল হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন ----  


আক্রান্ত বিজেপি বিধায়কদের পরিবারের পাশে বিপ্লব দেব

বনগাঁর দুই বিজেপি বিধায়কের পরিবারের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আজ আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের সাহস জোগাতে বনগাঁয় পৌঁছালেন রাজ্য বিজেপি ইন-চার্জ তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

সম্প্রতি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া এবং বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদারের পরিবারের সদস্যদের ওপর দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ।এদিন বিপ্লব দেব সরাসরি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার বাড়িতে যান এবং তাঁর স্ত্রীর সাথে কথা বলেন। এরপর তিনি বিধায়ক স্বপন মজুমদারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর শাশুড়ির সাথেও দেখা করেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি বার্তা দিলেন যে, দলের কার্যকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের পরিবারের পাশে শক্ত হাতে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

পুরো ভিডিও দেখতে লিংকে ক্লিক করুন ----- 


সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ: নির্বাচনের আগের রাতে বনগাঁয় গ্রেফতার বাংলাদেশি যুবক

 বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার অভিযোগে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেফতার করল বনগাঁ থানার পুলিশ। বুধবার রাতে বনগাঁর মতিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।


​পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তির নাম উতঙ্ক গাইন। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলায়। বুধবার রাতে মতিগঞ্জ এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুবক স্বীকার করেন যে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। তবে ভারতে প্রবেশের স্বপক্ষে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা তিনি দেখাতে পারেননি।

​বাংলাদেশে নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যে ওই যুবকের ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে:

​ বৃহস্পতিবার ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

​ধৃতের আসল উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা জানতে পুলিশ ৫ দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন করেছে।

​ নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁর এই অনুপ্রবেশ কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ভিডিও লিংক ----

#Dinkaalindia #দিনকালইন্ডিয়া

#Bongaon #CrimeNews #BangladeshElection #BorderSecurity #BreakingNews #WestBengal

আইনি জাঁতাকলে চিংড়িঘাটা মেট্রো; উন্নয়নের অপেক্ষায় সাধারণের ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং পূর্ব কলকাতার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ইএম বাইপাসের ওপর মেট্রো প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু চিংড়িঘাটা মোড়ে মেট্রো পিলার নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)-এর মধ্যেকার সংঘাত এখন আদালতের আঙিনায়। কলকাতা হাইকোর্ট কাজ শুরুর নির্দেশ দিলেও রাজ্য সরকারের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকল্পের ভবিষ্যৎকে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


চিংড়িঘাটা মোড়টি কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। রাজ্য সরকারের যুক্তি হলো, এখানে মেট্রো পিলার তৈরির জন্য ট্রাফিক ডাইভারশন করলে চরম যানজট সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে, রেলের দাবি—দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক অনুমতির অপেক্ষায় কাজ থমকে আছে, যার ফলে প্রকল্পের খরচ এবং সময় দুই-ই বাড়ছে।সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, জনস্বার্থে এই প্রকল্পের কাজ আর থামিয়ে রাখা যাবে না। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। এই পদক্ষেপ কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে দেয়:

সমন্বয়ের অভাব: কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় থাকলে কি এই সমস্যা আদালত পর্যন্ত গড়াত?উন্নয়ন বনাম রাজনীতি: মেগা প্রজেক্টের ক্ষেত্রে কি সাধারণ মানুষের সুবিধার চেয়ে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ইগো বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে?মেট্রো প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ার অর্থ হলো কয়েক লক্ষ মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম দীর্ঘায়িত হওয়া।সময় ও অর্থের অপচয়: যানজটে প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

পরিবেশ দূষণ: থমকে থাকা যানবাহনের ধোঁয়ায় চিংড়িঘাটা চত্বরে দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি: অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ এবং যানজটের ফলে পথ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলোতে (যেমন দিল্লি বা বেঙ্গালুরু) যখন রেকর্ড সময়ে নতুন রুট চালু হচ্ছে, তখন কলকাতায় প্রশাসনিক টালবাহানায় কাজ থমকে থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। আদালতের বারংবার হস্তক্ষেপ আসলে প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবকেই চিহ্নিত করে। উন্নয়ন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় হতে পারে না। সমাধানের জন্য প্রয়োজন: 

যুগ্ম ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট: রাজ্য পুলিশ এবং রেল কর্তৃপক্ষকে বসে বিকল্প ট্রাফিক রুট চূড়ান্ত করতে হবে।

চিংড়িঘাটা মেট্রো সম্প্রসারণ শুধু কংক্রিটের কাঠামো নয়, এটি লক্ষাধিক মানুষের আধুনিক যাতায়াতের স্বপ্ন। আইনি মারপ্যাঁচে এই স্বপ্ন যেন বিশ বাঁও জলে না যায়, তার দায়িত্ব নিতে হবে প্রশাসনকেই। জনস্বার্থ রক্ষাই হোক সরকারের মূল লক্ষ্য।

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অডিট ফাইল জমা দিতে ভয় পাচ্ছে রাজ্য, হিসেবে বড় গরমিল: জিএসটি বকেয়া নিয়ে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া জিএসটি (GST) পাওনা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত দীর্ঘদিনের। এই ইস্যুতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার সঠিক সময়ে অডিট ফাইল এবং ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা না দেওয়ার কারণেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে রয়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, "হিসেবের মধ্যে বড়সড় গরমিল রয়েছে, আর সেই কারণেই পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট জমা দিতে ভয় পাচ্ছে নবান্ন।"


​কেন্দ্রীয় সরকার বারবার দাবি করেছে যে, নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যগুলি যদি তাদের খরচের শংসাপত্র (Utilization Certificate) এবং এজি (AG) অডিট রিপোর্ট জমা না দেয়, তবে পরবর্তী কিস্তির টাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। শুভেন্দু অধিকারী এদিন সেই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেন। তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে গিয়ে বকেয়া টাকার দাবি জানাচ্ছেন, অথচ বাড়ির কাজ ঠিকমতো করছেন না। নথিপত্র যদি পরিষ্কার থাকে, তবে অডিট ফাইল জমা দিতে বাধা কোথায়?"

​বিরোধী দলনেতার দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে খরচ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, "ফান্ডের হিসেবে ব্যাপক গরমিল থাকার কারণেই রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরদারি এড়াতে চাইছে। হিসেবে স্বচ্ছতা থাকলে এতদিনে টাকা রাজ্যে চলে আসত। আসলে রাজ্যবাসীর সামনে দুর্নীতির কঙ্কাল বেরিয়ে আসার ভয়েই ফাইল চেপে রাখা হচ্ছে।"

​যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছে যে, তারা সমস্ত নিয়ম মেনেই হিসাব পাঠিয়েছে এবং টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কেন্দ্র অনেক সময় অজুহাত দিচ্ছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য সেই রাজনৈতিক তরজাকে আরও উসকে দিল। তার মতে, প্রশাসন সঠিক পথে চললে পাওনা টাকা পেতে কখনোই সমস্যা হতো না।সামনেই বেশ কিছু নির্বাচন এবং বাজেট পরবর্তী আবহে জিএসটি নিয়ে এই অভিযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার শুভেন্দুর এই অভিযোগের পাল্টা কী জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত অডিট ফাইল এবং জিএসটি বকেয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যে উত্তপ্ত থাকতে চলেছে, তা নিশ্চিত।

ভিডিও লিংক -- 


মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাষের জমিতে যাত্রীবাহী বাস, বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা

 নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাষের জমিতে যাত্রীবাহী বাস, বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা


​নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: মঙ্গলবার সকালে মেদিনীপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ল সাঁকরাইল থানার রগড়া এলাকায়। যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে চাষের জমিতে ঢুকে পড়ে। অল্পের জন্য বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাসে থাকা যাত্রীরা। ঘটনায় বাসের খালাসি আহত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে রগড়া থেকে মেদিনীপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে 'সম্রাট' নামের একটি যাত্রীবাহী বাস রওনা দেয়। রগড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটির স্টিয়ারিংয়ে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের একটি ধান খেতে নেমে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই জমিতে ধান চাষ চলছে এবং বৃষ্টির কারণে মাটি বেশ নরম ছিল। জমিতে চাকা বসে যাওয়ায় বাসটি উল্টে না গিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। মূলত মাটির এই নরম অবস্থার কারণেই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাসের কয়েক ডজন যাত্রী। কোনো যাত্রীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

​এই দুর্ঘটনায় বাসের খালাসি শংকর পাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাঁকরাইল থানার পুলিশ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটিকে উদ্ধার করতে ক্রেন আনা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য চাঞ্চল্য ছড়ালেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।