অনুসরণকারী/follow

SOCIAL MEDIA

Translate

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কেন্দ্রীয় ধর্মঘটে উত্তপ্ত ব্যারাকপুর: ব্যাঙ্ক পরিষেবা স্তব্ধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর: কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা ১২ই ফেব্রুয়ারির দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়ল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। সকাল থেকেই ধর্মঘটের সমর্থনে বাম ও সহযোগী সংগঠনগুলির কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় নামেন। ধর্মঘটের জেরে সবথেকে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা।


বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যারাকপুর স্টেশনের সংলগ্ন এলাকা, চিড়িয়ামোড় এবং টিটাগড় সংলগ্ন বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখার সামনে পিকেটিং শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ, বেশ কিছু জায়গায় জোরপূর্বক ব্যাঙ্কের ঝাঁপ ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে টাকা তোলা, জমা দেওয়া বা চেকের কাজের জন্য আসা সাধারণ গ্রাহকরা চরম হয়রানির শিকার হন। অনেক গ্রাহককেই ব্যাঙ্কের গেট থেকে ফিরে যেতে দেখা যায়।পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে কড়া পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও আন্দোলনকারীদের দমানো সম্ভব হয়নি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়ছে। ব্যারাকপুরের দুই হেভিওয়েট নেতার গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর:

অর্জুন সিং (বিজেপি নেতা):

​"এই ধর্মঘট পুরোপুরি জনবিরোধী। জোর করে ব্যাঙ্ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। উন্নয়নের গতি রুখতেই বামপন্থীরা এই নোংরা রাজনীতি করছে। মানুষ এই বন্ধ সমর্থন করে না।"

ভিডিও লিঙ্ক -- 


গার্গী চট্টোপাধ্যায় (সিপিআইএম নেত্রী):

​"কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি এবং শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদেই এই ধর্মঘট। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বন্ধ রেখে আমাদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন। লড়াইতে জেতা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।"​ধর্মঘটের জেরে ব্যারাকপুরের জনজীবন আংশিক ব্যাহত হলেও বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যাঙ্ক পরিষেবা আগামীকালকের আগে পুরোপুরি সচল হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন ----  


আক্রান্ত বিজেপি বিধায়কদের পরিবারের পাশে বিপ্লব দেব

বনগাঁর দুই বিজেপি বিধায়কের পরিবারের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আজ আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের সাহস জোগাতে বনগাঁয় পৌঁছালেন রাজ্য বিজেপি ইন-চার্জ তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

সম্প্রতি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া এবং বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদারের পরিবারের সদস্যদের ওপর দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ।এদিন বিপ্লব দেব সরাসরি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার বাড়িতে যান এবং তাঁর স্ত্রীর সাথে কথা বলেন। এরপর তিনি বিধায়ক স্বপন মজুমদারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর শাশুড়ির সাথেও দেখা করেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি বার্তা দিলেন যে, দলের কার্যকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের পরিবারের পাশে শক্ত হাতে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

পুরো ভিডিও দেখতে লিংকে ক্লিক করুন ----- 


সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ: নির্বাচনের আগের রাতে বনগাঁয় গ্রেফতার বাংলাদেশি যুবক

 বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার অভিযোগে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেফতার করল বনগাঁ থানার পুলিশ। বুধবার রাতে বনগাঁর মতিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।


​পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তির নাম উতঙ্ক গাইন। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলায়। বুধবার রাতে মতিগঞ্জ এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুবক স্বীকার করেন যে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। তবে ভারতে প্রবেশের স্বপক্ষে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা তিনি দেখাতে পারেননি।

​বাংলাদেশে নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যে ওই যুবকের ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে:

​ বৃহস্পতিবার ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

​ধৃতের আসল উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা জানতে পুলিশ ৫ দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন করেছে।

​ নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁর এই অনুপ্রবেশ কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ভিডিও লিংক ----

#Dinkaalindia #দিনকালইন্ডিয়া

#Bongaon #CrimeNews #BangladeshElection #BorderSecurity #BreakingNews #WestBengal

আইনি জাঁতাকলে চিংড়িঘাটা মেট্রো; উন্নয়নের অপেক্ষায় সাধারণের ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং পূর্ব কলকাতার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ইএম বাইপাসের ওপর মেট্রো প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু চিংড়িঘাটা মোড়ে মেট্রো পিলার নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)-এর মধ্যেকার সংঘাত এখন আদালতের আঙিনায়। কলকাতা হাইকোর্ট কাজ শুরুর নির্দেশ দিলেও রাজ্য সরকারের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকল্পের ভবিষ্যৎকে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


চিংড়িঘাটা মোড়টি কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। রাজ্য সরকারের যুক্তি হলো, এখানে মেট্রো পিলার তৈরির জন্য ট্রাফিক ডাইভারশন করলে চরম যানজট সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে, রেলের দাবি—দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক অনুমতির অপেক্ষায় কাজ থমকে আছে, যার ফলে প্রকল্পের খরচ এবং সময় দুই-ই বাড়ছে।সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, জনস্বার্থে এই প্রকল্পের কাজ আর থামিয়ে রাখা যাবে না। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। এই পদক্ষেপ কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে দেয়:

সমন্বয়ের অভাব: কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় থাকলে কি এই সমস্যা আদালত পর্যন্ত গড়াত?উন্নয়ন বনাম রাজনীতি: মেগা প্রজেক্টের ক্ষেত্রে কি সাধারণ মানুষের সুবিধার চেয়ে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ইগো বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে?মেট্রো প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ার অর্থ হলো কয়েক লক্ষ মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম দীর্ঘায়িত হওয়া।সময় ও অর্থের অপচয়: যানজটে প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

পরিবেশ দূষণ: থমকে থাকা যানবাহনের ধোঁয়ায় চিংড়িঘাটা চত্বরে দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি: অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ এবং যানজটের ফলে পথ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলোতে (যেমন দিল্লি বা বেঙ্গালুরু) যখন রেকর্ড সময়ে নতুন রুট চালু হচ্ছে, তখন কলকাতায় প্রশাসনিক টালবাহানায় কাজ থমকে থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। আদালতের বারংবার হস্তক্ষেপ আসলে প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবকেই চিহ্নিত করে। উন্নয়ন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় হতে পারে না। সমাধানের জন্য প্রয়োজন: 

যুগ্ম ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট: রাজ্য পুলিশ এবং রেল কর্তৃপক্ষকে বসে বিকল্প ট্রাফিক রুট চূড়ান্ত করতে হবে।

চিংড়িঘাটা মেট্রো সম্প্রসারণ শুধু কংক্রিটের কাঠামো নয়, এটি লক্ষাধিক মানুষের আধুনিক যাতায়াতের স্বপ্ন। আইনি মারপ্যাঁচে এই স্বপ্ন যেন বিশ বাঁও জলে না যায়, তার দায়িত্ব নিতে হবে প্রশাসনকেই। জনস্বার্থ রক্ষাই হোক সরকারের মূল লক্ষ্য।

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অডিট ফাইল জমা দিতে ভয় পাচ্ছে রাজ্য, হিসেবে বড় গরমিল: জিএসটি বকেয়া নিয়ে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া জিএসটি (GST) পাওনা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত দীর্ঘদিনের। এই ইস্যুতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার সঠিক সময়ে অডিট ফাইল এবং ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা না দেওয়ার কারণেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে রয়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, "হিসেবের মধ্যে বড়সড় গরমিল রয়েছে, আর সেই কারণেই পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট জমা দিতে ভয় পাচ্ছে নবান্ন।"


​কেন্দ্রীয় সরকার বারবার দাবি করেছে যে, নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যগুলি যদি তাদের খরচের শংসাপত্র (Utilization Certificate) এবং এজি (AG) অডিট রিপোর্ট জমা না দেয়, তবে পরবর্তী কিস্তির টাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। শুভেন্দু অধিকারী এদিন সেই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেন। তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে গিয়ে বকেয়া টাকার দাবি জানাচ্ছেন, অথচ বাড়ির কাজ ঠিকমতো করছেন না। নথিপত্র যদি পরিষ্কার থাকে, তবে অডিট ফাইল জমা দিতে বাধা কোথায়?"

​বিরোধী দলনেতার দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে খরচ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, "ফান্ডের হিসেবে ব্যাপক গরমিল থাকার কারণেই রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরদারি এড়াতে চাইছে। হিসেবে স্বচ্ছতা থাকলে এতদিনে টাকা রাজ্যে চলে আসত। আসলে রাজ্যবাসীর সামনে দুর্নীতির কঙ্কাল বেরিয়ে আসার ভয়েই ফাইল চেপে রাখা হচ্ছে।"

​যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছে যে, তারা সমস্ত নিয়ম মেনেই হিসাব পাঠিয়েছে এবং টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কেন্দ্র অনেক সময় অজুহাত দিচ্ছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য সেই রাজনৈতিক তরজাকে আরও উসকে দিল। তার মতে, প্রশাসন সঠিক পথে চললে পাওনা টাকা পেতে কখনোই সমস্যা হতো না।সামনেই বেশ কিছু নির্বাচন এবং বাজেট পরবর্তী আবহে জিএসটি নিয়ে এই অভিযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার শুভেন্দুর এই অভিযোগের পাল্টা কী জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত অডিট ফাইল এবং জিএসটি বকেয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যে উত্তপ্ত থাকতে চলেছে, তা নিশ্চিত।

ভিডিও লিংক -- 


মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাষের জমিতে যাত্রীবাহী বাস, বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা

 নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাষের জমিতে যাত্রীবাহী বাস, বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা


​নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: মঙ্গলবার সকালে মেদিনীপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ল সাঁকরাইল থানার রগড়া এলাকায়। যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে চাষের জমিতে ঢুকে পড়ে। অল্পের জন্য বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাসে থাকা যাত্রীরা। ঘটনায় বাসের খালাসি আহত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে রগড়া থেকে মেদিনীপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে 'সম্রাট' নামের একটি যাত্রীবাহী বাস রওনা দেয়। রগড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটির স্টিয়ারিংয়ে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের একটি ধান খেতে নেমে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই জমিতে ধান চাষ চলছে এবং বৃষ্টির কারণে মাটি বেশ নরম ছিল। জমিতে চাকা বসে যাওয়ায় বাসটি উল্টে না গিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। মূলত মাটির এই নরম অবস্থার কারণেই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাসের কয়েক ডজন যাত্রী। কোনো যাত্রীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

​এই দুর্ঘটনায় বাসের খালাসি শংকর পাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাঁকরাইল থানার পুলিশ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটিকে উদ্ধার করতে ক্রেন আনা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য চাঞ্চল্য ছড়ালেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




পুলিশকে ঘরে বন্দি করার দুঃসাহস! সিউড়িতে ধৃত ৬, উত্তপ্ত এলাকা

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিউড়ি: আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে চরম হেনস্থার মুখে পড়ল পুলিশ। অভিযুক্তের পরিবারের হাতে পুলিশ কর্মীদের বন্দি হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।


পুলিশ সূত্রে খবর, একটি পুরনো মামলায় সিউড়ি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাতিম শাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় সিউড়ি থানার পুলিশ অভিযুক্তকে ধরতে তার বাড়িতে অভিযানে যায়। তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ কর্মীরা বাড়ির দোতলায় উঠতেই সুযোগ বুঝে হাতিম শাহর পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে দরজা আটকে দেয়। দীর্ঘক্ষণ পুলিশ কর্মীদের ঘরের ভেতর বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

​ঘটনার খবর থানায় পৌঁছাতেই সিউড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা গিয়ে আটকে পড়া পুলিশ কর্মীদের উদ্ধার করে। কর্তব্যে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকে বন্দি করার অপরাধে রাতেই অভিযান চালিয়ে পরিবারের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত হাতিম শাহর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।

​পুলিশের ওপর এই হামলার ঘটনায় সিউড়ি জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ধৃত ৬ জনকে আজই সিউড়ি আদালতে তোলা হবে। ঘটনার পেছনে আর কারা জড়িত এবং কেন এই ধরণের দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

ভিডিও লিংক --- 


বনগাঁ স্টেশনে পুলিশের অভিযান: ৯টি চোরাই মোবাইলসহ গ্রেপ্তার ঝাড়খণ্ডের ২ যুবক

নিজস্ব প্রতিনিধি, বনগাঁ: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বড়সড় সাফল্য পেল বনগাঁ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার বনগাঁ স্টেশন চত্বরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নয়টি দামী মোবাইল ফোনসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম শ্যাম কুমার রাম (২৭) এবং করণ কুমার মাহাতো (২১)। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দুই যুবকই ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা।বনগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা ‘বড়বাবু’র নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এদিন স্টেশনে হানা দেয়। সন্দেহভাজন হিসেবে ওই দুই যুবককে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ৯টি দামী স্মার্টফোন উদ্ধার হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ফোনগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বিল দেখাতে পারেনি তারা।


​পুলিশি জেরার মুখে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা মূলত বিভিন্ন ট্রেন থেকে যাত্রীদের মোবাইল ফোন চুরি করত। ঝাড়খণ্ড থেকে এসে সীমান্তবর্তী এই এলাকায় চোরাই মোবাইল বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা জমায়েত হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। একটি বড়সড় মোবাইল পাচার চক্রের সাথে তারা যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এবং এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত তা জানতে ধৃতদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে আগামীকাল বনগাঁ মহকুমা আদালতে পাঠানো হবে।

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

উত্তপ্ত ব্যারাকপুর: আদালত চত্বরে তুলকালাম, অর্জুন সিং-এর নেতৃত্বে বিজেপির বিক্ষোভ।

 উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৮১ বছর বয়সী বৃদ্ধা তুলসী অধিকারীকে মারধর ও তার জেরে মৃত্যুর ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়াল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে আজ ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করল পুলিশ।


​গতকাল এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে শাসকদলও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। ব্যারাকপুর থানা প্রথমে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গ্রেফতার করে।

​আজ পুলিশ কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অভিযুক্তকে আদালতে তোলে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মোট চারটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে:

১০৩(১): খুনের ধারা (জামিন অযোগ্য)।

১১৫(২), ১২৬(২), এবং ৩৫১(২): অন্যান্য অপরাধমূলক ধারা।

​এদিন অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে ব্যারাকপুর চিড়িয়া মোড়ে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভ করেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে আদালতের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি বাধে। এর ফলে সাময়িকভাবে রাস্তা অবরোধ হলেও পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিজেপি কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

​বিজেপির অভিযোগ, বৃদ্ধা খুনের নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ভিডিও লিংক ------


রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রসেনজিতের বাড়ি গিয়ে রামমূর্তি উপহার সুকান্তর, ভোটের আগে বাড়ছে জল্পনা

শনিবার সকাল সকালই সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়ের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাক্তন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও। 


আর সে খবর ছড়িয়ে পড়তেই টলিউডে শোরগোল। তাহলে কী ভোটের আগে প্রসেনজিৎকে ঘিরে নতুন কোনও সমীকরণ দেখতে চলেছে টলিপাড়া? এই উত্তর পাওয়া না গেলেও, জানা গিয়েছে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের শনিবারের এই সাক্ষাৎ ছিল একেবারেই সৌজন্যমূলক। বরং অভিনেতা পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ায়, প্রসেনজিৎকে শুভেচ্ছা জানাতেই তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন সুকান্ত ও রুদ্রনীলরা।এদিন প্রসেনজিতের হাতে একটি রামলালার মূতি তুলে দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বেশ কিছুক্ষণ প্রসেনজিতের বাড়িতে ছিলেন সুকান্ত ও রুদ্রনীল। সিনেমা জগত, অভিনয় নিয়ে মূলত তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হালকা মেজাজেই উঠে এসেছে রাজ্য ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথাও।উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগে টলিউডের প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালী শুনিয়েছিলেন। আর এবার প্রসেনজিতের বাড়িতে সুকান্তের যাওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।টলিউডের বুম্বাদার বাড়িতে থেকে বেরিয়ে সুকান্ত জানালেন, ”এই সাক্ষাৎ একেবারেই রাজনৈতিক নয়। সব কিছুর পিছনে রাজনীতি না খোঁজাই ভালো। শিক্ষা, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে রাজনীতি না করাই ভালো। পদ্মশ্রী পাওয়ার জন্য প্রসেনজিৎকে সংবর্ধনা জানাতেই এসেছিলাম। সিনেমা হলেও তাঁর নতুন ছবি দারুণ ব্যবসা করছে। উত্তরোত্তর তাঁর শ্রীবৃদ্ধি হোক।” 

ভিডিও লিংক -