নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর: কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা ১২ই ফেব্রুয়ারির দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়ল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। সকাল থেকেই ধর্মঘটের সমর্থনে বাম ও সহযোগী সংগঠনগুলির কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় নামেন। ধর্মঘটের জেরে সবথেকে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যারাকপুর স্টেশনের সংলগ্ন এলাকা, চিড়িয়ামোড় এবং টিটাগড় সংলগ্ন বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখার সামনে পিকেটিং শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ, বেশ কিছু জায়গায় জোরপূর্বক ব্যাঙ্কের ঝাঁপ ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে টাকা তোলা, জমা দেওয়া বা চেকের কাজের জন্য আসা সাধারণ গ্রাহকরা চরম হয়রানির শিকার হন। অনেক গ্রাহককেই ব্যাঙ্কের গেট থেকে ফিরে যেতে দেখা যায়।পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে কড়া পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও আন্দোলনকারীদের দমানো সম্ভব হয়নি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়ছে। ব্যারাকপুরের দুই হেভিওয়েট নেতার গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর:
অর্জুন সিং (বিজেপি নেতা):
"এই ধর্মঘট পুরোপুরি জনবিরোধী। জোর করে ব্যাঙ্ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। উন্নয়নের গতি রুখতেই বামপন্থীরা এই নোংরা রাজনীতি করছে। মানুষ এই বন্ধ সমর্থন করে না।"
ভিডিও লিঙ্ক --
গার্গী চট্টোপাধ্যায় (সিপিআইএম নেত্রী):
"কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি এবং শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদেই এই ধর্মঘট। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বন্ধ রেখে আমাদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন। লড়াইতে জেতা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।"ধর্মঘটের জেরে ব্যারাকপুরের জনজীবন আংশিক ব্যাহত হলেও বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যাঙ্ক পরিষেবা আগামীকালকের আগে পুরোপুরি সচল হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন ----






