অনুসরণকারী/follow

SOCIAL MEDIA

Translate

সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রানাঘাটে বিজেপি যুব মোর্চার ‘যুব আড্ডা’: চপ-মুড়ি বিক্রি করে রাজ্য সরকারকে অভিনব প্রতিবাদ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রাজনৈতিক সভার চেনা ছবি বদলে দিয়ে এক অভিনব প্রতিবাদী কর্মসূচির সাক্ষী থাকল রানাঘাট। রবিবার সন্ধ্যায় রানাঘাট ছোটবাজার মোড়ে বিজেপি যুব মোর্চার পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল একটি বিশেষ ‘যুব আড্ডা’। তবে এই আড্ডা শুধু আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; সেখানে রীতিমতো স্টল সাজিয়ে চপ, ঘুগনি, মুড়ি ও চা বিক্রি করে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।



রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং বর্তমান রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থান নীতির সমালোচনা করতেই এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল বলে আয়োজকদের দাবি। সভায় উপস্থিত নেতৃত্ব প্রতীকীভাবে চপ ভাজা এবং চা পরিবেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বর্তমান পরিস্থিতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।


এই কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:

 * অর্চনা মজুমদার: রাজ্য বিজেপি মহিলা কমিশনের সদস্য।

 * পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়: রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভার বিধায়ক।

 * এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি ও যুব মোর্চার একঝাঁক নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দ।


এদিনের সভায় বিধায়ক পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে শিক্ষিত যুবসমাজের জন্য প্রকৃত কর্মসংস্থান নেই, তার বদলে 'চপ শিল্প' বা ছোটখাটো কাজের দোহাই দিয়ে যুবকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। অর্চনা মজুমদারও তাঁর বক্তব্যে নারী নিরাপত্তা ও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সোচ্চার হন।


রবিবার সন্ধ্যার এই আড্ডায় সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মুড়ি-ঘুগনি খেতে খেতে রাজনৈতিক আলোচনা শোনার এই নতুন ধরনটি পথচলতি মানুষের মধ্যেও বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করে। বিজেপি যুব মোর্চার নেতৃত্বের দাবি, আগামী দিনে এই ধরণের জনসংযোগমূলক কর্মসূচি জেলার অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

Video Link ---- 


রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গাইঘাটায় পুলিশের হানা: বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদসহ গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিনিধি, গাইঘাটা: এলাকায় অবৈধ মদের কারবার রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল গাইঘাটা থানার পুলিশ। শনিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি মদ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম জগদীশ দাস (৩৭)। শনিবার রাতে গাইঘাটার গোপালপুর খেলার মাঠ এলাকায় পুলিশ অতর্কিতে হানা দেয়। সেখান থেকেই জগদীশকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ২২ বোতল (প্রতিটি ৬০০ মিলি) দেশি মদ উদ্ধার হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই পুলিশের নজর এড়িয়ে এলাকায় এই বেআইনি কারবার চালিয়ে আসছিলেন জগদীশ। তবে শেষ রক্ষা হলো না। গোপন খবরের ভিত্তিতে শনিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।রবিবার ধৃত ব্যক্তিকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে গাইঘাটা থানার পুলিশ।

পাইপলাইনের কাজে বেহাল রাস্তা: প্রশাসনের উদাসীনতায় যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভে ফুঁসছে চাঁদপাড়া

 নিজস্ব প্রতিনিধি, গাইঘাটা: পাইপলাইনের কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছিল বেশ কিছুকাল আগে। কাজ মিটলেও রাস্তা আর সারানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নরকযন্ত্রণা সহ্য করার পর অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল গ্রামবাসীদের। রাস্তা সংস্কারের দাবিতে রবিবার গাইঘাটার চাঁদপাড়া সানাপাড়া এলাকায় যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইপলাইনের কাজের পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও রাস্তাটি মেরামতি করা হয়নি। বর্তমানে রাস্তাটি কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্ত আর ধুলো-বালির জেরে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত: নিত্যযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া এবং মুমূর্ষু রোগীরা।

ভাঙাচোরা রাস্তায় মাঝেমধ্যেই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। বিশেষ করে টোটো বা রিকশা নিয়ে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


এদিন সকাল থেকেই সানাপাড়া এলাকায় যশোর রোডের ওপর বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কয়েকশ গ্রামবাসী। এর ফলে উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই লাইফলাইনে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়। রাস্তার দুপাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের দাবি, "বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। শুধু প্রতিশ্রুতি মিলেছে, কাজ হয়নি।"

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের লিখিত আশ্বাস মেলায় কয়েক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। এর পরেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল শুরু হয়।


দর্শক বন্ধু নানা ধরনের খবরের আপডেট পেতে আমাদের দিনকাল ইন্ডিয়া চ্যানেলটি সাবসক্রাইব করে রাখুন 

রাজ্যে অনুপ্রবেশ ও জঙ্গি কার্যকলাপের বাড়বাড়ন্ত, শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শমীক ভট্টাচার্যের

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে বেনজির আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জামাতের উত্থান এবং রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।


শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে জঙ্গি কার্যকলাপের 'সেফ জোন' বা নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের উন্মুক্ত অবস্থার সুযোগ নিয়ে অবাধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছে। তিনি দাবি করেন, গত সাত বছর ধরে এই রাজ্যে জিহাদি চিন্তাধারার প্রসার ঘটেছে। বিশেষ করে সীমান্ত বরাবর জামাত-উল-মুজাহিদিনের মতো সংগঠনের উত্থান দেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। অবিলম্বে এদের কঠোরহস্তে দমন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, গত তিন বছরে রাজ্যে যত রাজনৈতিক খুন হয়েছে, তার ৭৫ শতাংশেরও বেশি নিছক তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। তাঁর দাবি:গত দুই বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজনৈতিক খুনের ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই তৃণমূল তৃণমূলকে মারছে।বাকি অংশ বিজেপির কর্মীদের ওপর আক্রমণ।তৃণমূলকে 'জীবন্ত জীবাশ্ম' হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সরকার কার্যত অস্তিত্বহীন।নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বাংলার লজ্জা যে ভোটের এত আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতে হচ্ছে। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে জেলা জজের তত্ত্বাবধান ছাড়া সুষ্ঠু বিচার বা প্রক্রিয়া সম্ভব হচ্ছে না।"

বিজেপির পক্ষ থেকে তিনি 'No Sir, No Vote' স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পাশাপাশি, বিজেপির 'ফর্ম সেভেন' (Form 7) যা পুড়িয়ে দেওয়া বা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুনরায় পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেন তিনি।

Video Link --- 

 #DINKAALINDIA #SamikBhattacharya #WBNews #PoliticalViolence #BorderSecurity #BJPWestBengal #TMC

নির্বাচনের আগেই তপ্ত বাংলা: কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে সেলিম-মীনাক্ষী, বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীরামপুর: লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই নিজের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে সিপিএম ও আইএসএফ নেতৃত্ব— একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি। তাঁর একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


নির্বাচন ঘোষণার আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, “৪৮০ কোম্পানি কেন, ১৪৮০ দিলেও কিছু যায় আসে না। ওদের কেন্দ্রীয় বাহিনী আছে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে ১০ কোটি মানুষ আছে। ভোটটা মানুষ দেবে, কোম্পানির লোক দেবে না।” তাঁর এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, বাহিনীর উপস্থিতিকে আমল না দিয়ে জনসমর্থনের ওপরই বেশি ভরসা রাখছে শাসক দল।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “সেলিম সিপিএম পার্টিটাকে নষ্ট করেছে। ওর মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অহংকারী মানুষ আমি আগে দেখিনি। যতদিন সেলিমের মতো দাম্ভিক লোক থাকবে, ততদিন সিপিএমের আরও অবক্ষয় হবে।”

পাশাপাশি, তরুণী নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কেও ছেড়ে কথা বলেননি তিনি। উত্তরপাড়া প্রসঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কল্যাণবাবু বলেন, “মীনাক্ষী উত্তরপাড়ায় দাঁড়ালে হারিয়ে ভূত করে ছেড়ে দেব।” তাঁর দাবি, সিপিএমের অন্দরে এখন শুধু মীনাক্ষীকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে দলের বাকি তরুণ নেতৃত্ব অসন্তুষ্ট।

ভাঙড়ের বিধায়ক শওকত মোল্লার ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে আইএসএফ পুরোপুরি “মুছে যাবে”।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা ‘রথযাত্রা’-কেও বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। তাঁর মতে, “রথের চাকা যত গড়াবে, বিরোধীদের তত হাজার হাজার ভোট কমবে।” ---

Video Link ---- 



কাজের চাপে দিশেহারা: মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা প্রধান শিক্ষকের

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: নির্বাচনী সংশোধনী বা ‘SIR’ (Summary Iterative Revision) কাজের প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক প্রধান শিক্ষক। শনিবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে টিটাগড় ঘাটে। প্রাণে বেঁচে গেলেও বর্তমানে তিনি বারাকপুর বি.এন. বসু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আক্রান্ত শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ কায়ামউদ্দিন। তিনি কাঁচরাপাড়া আর.পি. হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং বারাকপুর পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলি হায়দার রোড এলাকার বিএলও (BLO) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে, আজ ছিল SIR সংশোধনীর শেষ দিন। কাজের পাহাড়প্রমাণ চাপ এবং সময়সীমার বাধ্যবাধকতায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি।

এদিন টিটাগড় ঘাট থেকে একটি নৌকায় ওঠেন কায়ামউদ্দিন সাহেব। নৌকাটি মাঝগঙ্গায় পৌঁছালে তিনি হঠাৎ ঝাঁপ দেন। তবে মাঝিদের তৎপরতা এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের প্রচেষ্টায় তাঁকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রথমে তাঁকে শ্রীরামপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বারাকপুর বি.এন. বসু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কায়ামউদ্দিনের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি এই কাজের চাপ নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। বাড়ির লোকেদের সাথেও এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। তিনি অসুস্থ শিক্ষকের খোঁজখবর নেন এবং প্রশাসনিক চাপের তীব্র নিন্দা করেন। বিধায়ক বলেন:

"SIR-এর শেষ মুহূর্তে এসেও কোনো শান্তি নেই। এই শিক্ষককে নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।"

শিক্ষকদের ওপর বিএলও বা অ-শিক্ষকসুলভ কাজের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। এই ঘটনা সেই ক্ষোভকে আরও উসকে দিল। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন কায়ামউদ্দিন সাহেব। প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Video Link --- 


শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬-এর ডিজিটাল বিপ্লব: এআই (AI) কীভাবে বদলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন ও উপার্জনের মাধ্যম?

নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনকাল ইন্ডিয়া: ২০২৬ সাল ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এখন আর শুধু গবেষণাগারের বিষয় নয়, বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিশেষ করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য AI আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আগে যেখানে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বা ভিডিও তৈরি করতে হাজার হাজার টাকা এবং অনেক সময়ের প্রয়োজন হতো, এখন AI-এর সাহায্যে তা কয়েক মিনিটেই সম্ভব হচ্ছে।

কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ?

১. নতুন কর্মসংস্থান: AI প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

২. সহজ প্রযুক্তি: কোডিং না জেনেই এখন যে কেউ নিজের জন্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তৈরি করতে পারছেন।

৩. উপার্জনের সুযোগ: ইউটিউব শর্টস এবং ফেসবুক রিলস তৈরিতে AI ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্ম দ্রুত সফল হচ্ছে।

দিনকাল ইন্ডিয়া সবসময় আপনাদের প্রযুক্তির সঠিক তথ্যের সাথে আপডেট রাখতে বদ্ধপরিকর। আপনি কি আপনার কাজে AI ব্যবহার শুরু করেছেন? কমেন্টে আমাদের জানান।


বেলঘড়িয়া টেক্সম্যাকো কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বেলঘড়িয়া: ভরদুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল বেলঘড়িয়ার টেক্সম্যাকো কারখানা। শনিবার টেক্সম্যাকোর বেলঘড়িয়া ডিভিশনের স্যান্ড মিল অয়েল ট্যাঙ্কারে আচমকাই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে কারশেড এবং নিউ সেডের উপরের ফাইবার শিটে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা শিল্পাঞ্চলে।


আগুন লাগার সাথে সাথেই কারখানার শ্রমিকরা প্রাথমিক অবস্থায় তা নেভানোর কাজে হাত লাগান। খবর দেওয়া হয় দমকলে। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় দমকলের ৩টি ইঞ্জিন। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

দুর্ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই কারখানা কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে:

কারখানার ভেতর থেকে সমস্ত শ্রমিককে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

কারখানার সমস্ত গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে বহিরাগত কেউ প্রবেশ করতে না পারে।

বড় কোনো বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনা এড়াতে গোটা টেক্সম্যাকো অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। টেক্সম্যাকো অফিস, শ্রমিক ও অফিসারদের আবাসন—সর্বত্রই নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়।

দমকল ও শ্রমিকদের তৎপরতায় কারখানাটি এক বড়সড় ধ্বংসলীলার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। স্বস্তির বিষয় এই যে, এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো শ্রমিকের হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে কারখানার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিক কী কারণে অয়েল ট্যাঙ্কারে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Video Link --- 

দর্শক বন্ধু নানা ধরনের খবরের আপডেট পেতে আমাদের দিনকাল ইন্ডিয়া চ্যানেলটি সাবসক্রাইব করে রাখুন, ধন্যবাদ 

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিড়ি চাওয়া নিয়ে বচসা, মদ্যপ সঙ্গীর মারে মৃত্যু প্রৌঢ়ের

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতা: সামান্য একটা বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে বচসা, আর সেই বিবাদের জেরে মারধরের ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাওড়ার আমতার জয়পুর থানার ঝামটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তেলিবেড়িয়া এলাকা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম ভোলা ওরফে সীমন্ত দোলুই বয়স 49)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাগর দোলুই নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাত ১০টা নাগাদ তেলিবেড়িয়া এলাকায় বসে মদ্যপান করছিলেন ভোলা ও সাগর। অভিযুক্ত সাগর পুলিশি জেরায় দাবি করেছে, মদ্যপান চলাকালীন ভোলা তার কাছে একটি বিড়ি চায়। সাগরের কাছে বিড়ি না থাকায় সে দিতে অস্বীকার করে। অভিযোগ, এরপরেই ভোলা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।

গালিগালাজকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, রাগের মাথায় সাগর ভোলাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কিল, চড় ও ঘুষি মারতে থাকে। মারের চোটে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ভোলা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতা ২ নম্বর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাকে ছেড়ে দেন।

সোমবার বাড়ি ফেরার পর ভোলা পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর এলাকায় পৌঁছাতেই বুধবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জয়পুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযুক্ত সাগর দোলুইয়ের একটি মুদিখানার দোকান রয়েছে, অন্যদিকে মৃত ভোলা পেশায় কৃষক ছিলেন।

যখন সাগর ভোলাকে বেধড়ক মারধর করছিল, তখন সেখানে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কেউ সেই সময় বাধা দিতে এগিয়ে আসেননি। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে সবাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে যান।জয়পুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত সাগর দোলুইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সামান্য বিড়ি নিয়ে বিবাদের জেরে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির: পদ্ম শিবিরে প্রাক্তন এনএসজি কর্তা ও কেবিসি বিজয়ী, যোগ দিলেন ক্ষিতি-কন্যাও

 ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই রাজ্যে বড়সড় সাংগঠনিক চমক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। মঙ্গলবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। যার মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য নাম প্রাক্তন এনএসজি (NSG) কর্তা দীপাঞ্জন চক্রবর্তী এবং ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ২০২৫’-এর বিজয়ী তথা প্রাক্তন সিআরপিএফ অফিসার বিপ্লব বিশ্বাস।


এদিন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন নবাগতরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক ডা. শঙ্কর ঘোষও।একই পরিবারে তিন ধারা

যোগদানকারীদের তালিকায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নাম হলো সুশ্রী কস্তুরী গোস্বামী। তিনি বাম আমলের দাপুটে মন্ত্রী তথা প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা। কস্তুরী দেবীর দিদি বসুন্ধরা গোস্বামী বর্তমানে তৃণমূলের কাউন্সিলর। ফলে বাবা ছিলেন বাম রাজনীতির কাণ্ডারি, এক মেয়ে তৃণমূল এবং অন্য মেয়ে বিজেপিতে— একই পরিবারে তিন ভিন্ন মেরুর রাজনৈতিক অবস্থান এখন রাজ্য রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।অন্যদিকে, প্রাক্তন এনএসজি আন্ডারকভার এজেন্ট দীপাঞ্জন চক্রবর্তী এবং সিআরপিএফ-এর অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি বিপ্লব বিশ্বাসকে দলে টেনে বিজেপি ‘সুরক্ষা ও জাতীয়তাবাদ’-এর বার্তাকে আরও সুসংহত করতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এছাড়া দীর্ঘদিনের আরএসএস ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ডা. অক্ষয় বিনজরাজকাও এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।

যোগদান মেলার পাশাপাশি এদিন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে “আঁধারের কত কথা” শীর্ষক একটি বই প্রকাশ করা হয়। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এই বইয়ে রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক প্রামাণ্য দলিল তুলে ধরা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত “মহাজঙ্গলরাজ”-এর স্বরূপ সাধারণ মানুষের সামনে আনতেই এই উদ্যোগ।

রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই যোগদান প্রমাণ করে যে রাজ্যের মানুষ ইতিবাচক পরিবর্তন চাইছেন।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতে, “নতুন সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে।