অনুসরণকারী/follow

SOCIAL MEDIA

Translate

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ইডেনে ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’ লড়াই, জয়ের লক্ষ্যে মা কালীর শরণে গৌতম গম্ভীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সমীকরণটা পরিষ্কার—সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে রবিবার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতেই হবে।


ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এই ম্যাচকে ঘিরে এখন থেকেই ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’-এর আবহ। আর এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে কলকাতার জাগ্রত দেবী মা কালীর আশীর্বাদ নিলেন ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর।

​শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ কলকাতায় পা রাখে টিম ইন্ডিয়া। পরিকল্পনা ছিল সেদিনই কালীঘাটে যাওয়ার, কিন্তু সূচি পরিবর্তনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে শনিবার সকালে আর দেরি করেননি গম্ভীর। সাতসকালেই পৌঁছে যান কালীঘাট মন্দিরে। নিষ্ঠা ভরে পুজো দিয়ে দলের মঙ্গলকামনা করেন তিনি।

​প্রসঙ্গত, গৌতম গম্ভীরের কাছে এটি নতুন কিছু নয়। আইপিএল-এর সময় কেকেআর মেন্টর হিসেবে যখনই কলকাতায় এসেছেন, নিয়ম করে কালীঘাটে পুজো দিয়েছেন। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের সময়ও তাঁকে মন্দিরে দেখা গিয়েছিল। বরাবরই তিনি বিশ্বাস করেন, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক শক্তিও মানসিক দৃঢ়তা জোগায়। রবিবাসরীয় ইডেনে মরণ-বাঁচন ম্যাচের আগে গম্ভীরের এই মন্দির দর্শন কি ভাগ্য ফেরাতে পারবে টিম ইন্ডিয়ার? এখন সেদিকেই তাকিয়ে আপামর ক্রিকেট প্রেমীরা।



শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বনগাঁ ও ঠাকুরনগরে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প! আতঙ্কিত স্কুল পড়ুয়ারা।

 নিজস্ব প্রতিনিধি, বনগাঁ: উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হলো মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ আচমকা এই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা ও ওপার বাংলার সাতক্ষীরা জেলায় এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৯।

সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় ঠাকুরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। দুপুরবেলা যখন পুরোদমে ক্লাস চলছিল, সেই সময় হঠাৎই স্কুল ভবন কাঁপতে শুরু করে। ভূমিকম্প টের পাওয়া মাত্রই ক্লাসরুমের ভেতর হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তবে শিক্ষকদের তৎপরতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। টিফিনের ঘণ্টা বাজার আগেই তড়িঘড়ি সমস্ত পড়ুয়াকে ক্লাসরুম থেকে বের করে স্কুলের খোলা মাঠে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘক্ষণ আতঙ্কে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকে ছাত্রছাত্রীরা।বনগাঁ ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় কম্পন বেশ জোরালো অনুভূত হলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি। তবে সীমান্ত সংলগ্ন পুরনো বাড়িগুলোতে কোনো ফাটল ধরেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক নজরে আজকের ভূমিকম্প:

সময়: দুপুর ১টা ২২ মিনিট।মাত্রা: ৪.৯ (রিখটার স্কেল)।উৎসস্থল: বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা (ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন)।

প্রভাবিত এলাকা: বনগাঁ, ঠাকুরনগর, গাইঘাটা এবং ওপার বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

বিকেলের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে পরবর্তী কম্পন বা 'আফটার শক' নিয়ে চাপা উদ্বেগ রয়ে গেছে।

Video Link --- 


DINKAAL INDIA-র পর্দায় খবরের আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভোট ঘোষণার আগেই পানিহাটিতে ‘গৃহ সম্পর্ক’ অভিযানে সুকান্ত মজুমদার! ঘরের দুয়ারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পেয়ে অভাব-অভিযোগের পাহাড় বাসিন্দাদের।

ভোটের দামামা বাজার আগেই জনসংযোগে জোর দিল বিজেপি। আজ হঠাৎই উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ‘দুয়ারে’ পৌঁছে গেলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ঘরের দরজায় পেয়ে একদিকে যেমন অবাক বাসিন্দারা, তেমনই নারী সুরক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান— একগুচ্ছ অভাব-অভিযোগ উগড়ে দিলেন তারা। যদিও বিজেপির এই কর্মসূচিকে বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।


বুধবার সকালে পানিহাটির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলিতে ঘুরতে দেখা গেল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। কোনো রাজনৈতিক সভা নয়, সরাসরি মানুষের ঘরের দরজায় কড়া নাড়লেন তিনি। সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করলেন এলাকার নাড়ির স্পন্দন।

স্থানীয় বাসিন্দারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কাছে পেয়েই নিজেদের ক্ষোভ ও দাবীর কথা জানান। কেউ চাইলেন কাজের সুযোগ, কেউ আবার সরব হলেন নারী সুরক্ষা নিয়ে। এলাকার মহিলারা স্পষ্ট জানান, তারা পরিবর্তন চান যাতে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। অন্যদিকে, অনেকে আবার ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চাননি।

ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই এই ধরণের ‘গৃহ সম্পর্ক’ অভিযান যে ভোটারদের মন বুঝতেই করা হচ্ছে, তা গোপন রাখেননি সুকান্ত মজুমদার নিজেও। তিনি মন দিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই জনসংযোগকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি পানিহাটির তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, ভোটের আগে এসব নাটক করে কোনো লাভ হবে না। পানিহাটির মানুষ উন্নয়নের পাশেই আছেন।

বিজেপির এই জনসংযোগ ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

"প্রতি মুহূর্তের টাটকা খবর এবং সঠিক বিশ্লেষণ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল DINKAAL INDIA। 


ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক করুন এবং শেয়ার করে পৌঁছে দিন সবার কাছে। ধন্যবাদ।"

সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রানাঘাটে বিজেপি যুব মোর্চার ‘যুব আড্ডা’: চপ-মুড়ি বিক্রি করে রাজ্য সরকারকে অভিনব প্রতিবাদ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রাজনৈতিক সভার চেনা ছবি বদলে দিয়ে এক অভিনব প্রতিবাদী কর্মসূচির সাক্ষী থাকল রানাঘাট। রবিবার সন্ধ্যায় রানাঘাট ছোটবাজার মোড়ে বিজেপি যুব মোর্চার পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল একটি বিশেষ ‘যুব আড্ডা’। তবে এই আড্ডা শুধু আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; সেখানে রীতিমতো স্টল সাজিয়ে চপ, ঘুগনি, মুড়ি ও চা বিক্রি করে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।



রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং বর্তমান রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থান নীতির সমালোচনা করতেই এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল বলে আয়োজকদের দাবি। সভায় উপস্থিত নেতৃত্ব প্রতীকীভাবে চপ ভাজা এবং চা পরিবেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বর্তমান পরিস্থিতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।


এই কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:

 * অর্চনা মজুমদার: রাজ্য বিজেপি মহিলা কমিশনের সদস্য।

 * পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়: রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভার বিধায়ক।

 * এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি ও যুব মোর্চার একঝাঁক নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দ।


এদিনের সভায় বিধায়ক পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে শিক্ষিত যুবসমাজের জন্য প্রকৃত কর্মসংস্থান নেই, তার বদলে 'চপ শিল্প' বা ছোটখাটো কাজের দোহাই দিয়ে যুবকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। অর্চনা মজুমদারও তাঁর বক্তব্যে নারী নিরাপত্তা ও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সোচ্চার হন।


রবিবার সন্ধ্যার এই আড্ডায় সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মুড়ি-ঘুগনি খেতে খেতে রাজনৈতিক আলোচনা শোনার এই নতুন ধরনটি পথচলতি মানুষের মধ্যেও বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করে। বিজেপি যুব মোর্চার নেতৃত্বের দাবি, আগামী দিনে এই ধরণের জনসংযোগমূলক কর্মসূচি জেলার অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

Video Link ---- 


রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গাইঘাটায় পুলিশের হানা: বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদসহ গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিনিধি, গাইঘাটা: এলাকায় অবৈধ মদের কারবার রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল গাইঘাটা থানার পুলিশ। শনিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি মদ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম জগদীশ দাস (৩৭)। শনিবার রাতে গাইঘাটার গোপালপুর খেলার মাঠ এলাকায় পুলিশ অতর্কিতে হানা দেয়। সেখান থেকেই জগদীশকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ২২ বোতল (প্রতিটি ৬০০ মিলি) দেশি মদ উদ্ধার হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই পুলিশের নজর এড়িয়ে এলাকায় এই বেআইনি কারবার চালিয়ে আসছিলেন জগদীশ। তবে শেষ রক্ষা হলো না। গোপন খবরের ভিত্তিতে শনিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।রবিবার ধৃত ব্যক্তিকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে গাইঘাটা থানার পুলিশ।

পাইপলাইনের কাজে বেহাল রাস্তা: প্রশাসনের উদাসীনতায় যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভে ফুঁসছে চাঁদপাড়া

 নিজস্ব প্রতিনিধি, গাইঘাটা: পাইপলাইনের কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছিল বেশ কিছুকাল আগে। কাজ মিটলেও রাস্তা আর সারানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নরকযন্ত্রণা সহ্য করার পর অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল গ্রামবাসীদের। রাস্তা সংস্কারের দাবিতে রবিবার গাইঘাটার চাঁদপাড়া সানাপাড়া এলাকায় যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইপলাইনের কাজের পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও রাস্তাটি মেরামতি করা হয়নি। বর্তমানে রাস্তাটি কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্ত আর ধুলো-বালির জেরে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত: নিত্যযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া এবং মুমূর্ষু রোগীরা।

ভাঙাচোরা রাস্তায় মাঝেমধ্যেই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। বিশেষ করে টোটো বা রিকশা নিয়ে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


এদিন সকাল থেকেই সানাপাড়া এলাকায় যশোর রোডের ওপর বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কয়েকশ গ্রামবাসী। এর ফলে উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই লাইফলাইনে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়। রাস্তার দুপাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের দাবি, "বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। শুধু প্রতিশ্রুতি মিলেছে, কাজ হয়নি।"

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের লিখিত আশ্বাস মেলায় কয়েক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। এর পরেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল শুরু হয়।


দর্শক বন্ধু নানা ধরনের খবরের আপডেট পেতে আমাদের দিনকাল ইন্ডিয়া চ্যানেলটি সাবসক্রাইব করে রাখুন 

রাজ্যে অনুপ্রবেশ ও জঙ্গি কার্যকলাপের বাড়বাড়ন্ত, শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শমীক ভট্টাচার্যের

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে বেনজির আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জামাতের উত্থান এবং রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।


শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে জঙ্গি কার্যকলাপের 'সেফ জোন' বা নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের উন্মুক্ত অবস্থার সুযোগ নিয়ে অবাধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছে। তিনি দাবি করেন, গত সাত বছর ধরে এই রাজ্যে জিহাদি চিন্তাধারার প্রসার ঘটেছে। বিশেষ করে সীমান্ত বরাবর জামাত-উল-মুজাহিদিনের মতো সংগঠনের উত্থান দেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। অবিলম্বে এদের কঠোরহস্তে দমন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, গত তিন বছরে রাজ্যে যত রাজনৈতিক খুন হয়েছে, তার ৭৫ শতাংশেরও বেশি নিছক তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। তাঁর দাবি:গত দুই বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজনৈতিক খুনের ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই তৃণমূল তৃণমূলকে মারছে।বাকি অংশ বিজেপির কর্মীদের ওপর আক্রমণ।তৃণমূলকে 'জীবন্ত জীবাশ্ম' হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সরকার কার্যত অস্তিত্বহীন।নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বাংলার লজ্জা যে ভোটের এত আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতে হচ্ছে। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে জেলা জজের তত্ত্বাবধান ছাড়া সুষ্ঠু বিচার বা প্রক্রিয়া সম্ভব হচ্ছে না।"

বিজেপির পক্ষ থেকে তিনি 'No Sir, No Vote' স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পাশাপাশি, বিজেপির 'ফর্ম সেভেন' (Form 7) যা পুড়িয়ে দেওয়া বা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুনরায় পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেন তিনি।

Video Link --- 

 #DINKAALINDIA #SamikBhattacharya #WBNews #PoliticalViolence #BorderSecurity #BJPWestBengal #TMC

নির্বাচনের আগেই তপ্ত বাংলা: কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে সেলিম-মীনাক্ষী, বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীরামপুর: লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই নিজের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে সিপিএম ও আইএসএফ নেতৃত্ব— একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি। তাঁর একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


নির্বাচন ঘোষণার আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, “৪৮০ কোম্পানি কেন, ১৪৮০ দিলেও কিছু যায় আসে না। ওদের কেন্দ্রীয় বাহিনী আছে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে ১০ কোটি মানুষ আছে। ভোটটা মানুষ দেবে, কোম্পানির লোক দেবে না।” তাঁর এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, বাহিনীর উপস্থিতিকে আমল না দিয়ে জনসমর্থনের ওপরই বেশি ভরসা রাখছে শাসক দল।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “সেলিম সিপিএম পার্টিটাকে নষ্ট করেছে। ওর মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অহংকারী মানুষ আমি আগে দেখিনি। যতদিন সেলিমের মতো দাম্ভিক লোক থাকবে, ততদিন সিপিএমের আরও অবক্ষয় হবে।”

পাশাপাশি, তরুণী নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কেও ছেড়ে কথা বলেননি তিনি। উত্তরপাড়া প্রসঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কল্যাণবাবু বলেন, “মীনাক্ষী উত্তরপাড়ায় দাঁড়ালে হারিয়ে ভূত করে ছেড়ে দেব।” তাঁর দাবি, সিপিএমের অন্দরে এখন শুধু মীনাক্ষীকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে দলের বাকি তরুণ নেতৃত্ব অসন্তুষ্ট।

ভাঙড়ের বিধায়ক শওকত মোল্লার ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে আইএসএফ পুরোপুরি “মুছে যাবে”।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা ‘রথযাত্রা’-কেও বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। তাঁর মতে, “রথের চাকা যত গড়াবে, বিরোধীদের তত হাজার হাজার ভোট কমবে।” ---

Video Link ---- 



কাজের চাপে দিশেহারা: মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা প্রধান শিক্ষকের

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: নির্বাচনী সংশোধনী বা ‘SIR’ (Summary Iterative Revision) কাজের প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক প্রধান শিক্ষক। শনিবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে টিটাগড় ঘাটে। প্রাণে বেঁচে গেলেও বর্তমানে তিনি বারাকপুর বি.এন. বসু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আক্রান্ত শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ কায়ামউদ্দিন। তিনি কাঁচরাপাড়া আর.পি. হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং বারাকপুর পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলি হায়দার রোড এলাকার বিএলও (BLO) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে, আজ ছিল SIR সংশোধনীর শেষ দিন। কাজের পাহাড়প্রমাণ চাপ এবং সময়সীমার বাধ্যবাধকতায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি।

এদিন টিটাগড় ঘাট থেকে একটি নৌকায় ওঠেন কায়ামউদ্দিন সাহেব। নৌকাটি মাঝগঙ্গায় পৌঁছালে তিনি হঠাৎ ঝাঁপ দেন। তবে মাঝিদের তৎপরতা এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের প্রচেষ্টায় তাঁকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রথমে তাঁকে শ্রীরামপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বারাকপুর বি.এন. বসু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কায়ামউদ্দিনের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি এই কাজের চাপ নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। বাড়ির লোকেদের সাথেও এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। তিনি অসুস্থ শিক্ষকের খোঁজখবর নেন এবং প্রশাসনিক চাপের তীব্র নিন্দা করেন। বিধায়ক বলেন:

"SIR-এর শেষ মুহূর্তে এসেও কোনো শান্তি নেই। এই শিক্ষককে নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।"

শিক্ষকদের ওপর বিএলও বা অ-শিক্ষকসুলভ কাজের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। এই ঘটনা সেই ক্ষোভকে আরও উসকে দিল। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন কায়ামউদ্দিন সাহেব। প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Video Link --- 


শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬-এর ডিজিটাল বিপ্লব: এআই (AI) কীভাবে বদলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন ও উপার্জনের মাধ্যম?

নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনকাল ইন্ডিয়া: ২০২৬ সাল ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এখন আর শুধু গবেষণাগারের বিষয় নয়, বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিশেষ করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য AI আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আগে যেখানে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বা ভিডিও তৈরি করতে হাজার হাজার টাকা এবং অনেক সময়ের প্রয়োজন হতো, এখন AI-এর সাহায্যে তা কয়েক মিনিটেই সম্ভব হচ্ছে।

কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ?

১. নতুন কর্মসংস্থান: AI প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

২. সহজ প্রযুক্তি: কোডিং না জেনেই এখন যে কেউ নিজের জন্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তৈরি করতে পারছেন।

৩. উপার্জনের সুযোগ: ইউটিউব শর্টস এবং ফেসবুক রিলস তৈরিতে AI ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্ম দ্রুত সফল হচ্ছে।

দিনকাল ইন্ডিয়া সবসময় আপনাদের প্রযুক্তির সঠিক তথ্যের সাথে আপডেট রাখতে বদ্ধপরিকর। আপনি কি আপনার কাজে AI ব্যবহার শুরু করেছেন? কমেন্টে আমাদের জানান।


বেলঘড়িয়া টেক্সম্যাকো কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বেলঘড়িয়া: ভরদুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল বেলঘড়িয়ার টেক্সম্যাকো কারখানা। শনিবার টেক্সম্যাকোর বেলঘড়িয়া ডিভিশনের স্যান্ড মিল অয়েল ট্যাঙ্কারে আচমকাই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে কারশেড এবং নিউ সেডের উপরের ফাইবার শিটে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা শিল্পাঞ্চলে।


আগুন লাগার সাথে সাথেই কারখানার শ্রমিকরা প্রাথমিক অবস্থায় তা নেভানোর কাজে হাত লাগান। খবর দেওয়া হয় দমকলে। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় দমকলের ৩টি ইঞ্জিন। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

দুর্ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই কারখানা কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে:

কারখানার ভেতর থেকে সমস্ত শ্রমিককে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

কারখানার সমস্ত গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে বহিরাগত কেউ প্রবেশ করতে না পারে।

বড় কোনো বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনা এড়াতে গোটা টেক্সম্যাকো অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। টেক্সম্যাকো অফিস, শ্রমিক ও অফিসারদের আবাসন—সর্বত্রই নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়।

দমকল ও শ্রমিকদের তৎপরতায় কারখানাটি এক বড়সড় ধ্বংসলীলার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। স্বস্তির বিষয় এই যে, এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো শ্রমিকের হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে কারখানার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিক কী কারণে অয়েল ট্যাঙ্কারে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Video Link --- 

দর্শক বন্ধু নানা ধরনের খবরের আপডেট পেতে আমাদের দিনকাল ইন্ডিয়া চ্যানেলটি সাবসক্রাইব করে রাখুন, ধন্যবাদ 

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিড়ি চাওয়া নিয়ে বচসা, মদ্যপ সঙ্গীর মারে মৃত্যু প্রৌঢ়ের

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতা: সামান্য একটা বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে বচসা, আর সেই বিবাদের জেরে মারধরের ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাওড়ার আমতার জয়পুর থানার ঝামটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তেলিবেড়িয়া এলাকা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম ভোলা ওরফে সীমন্ত দোলুই বয়স 49)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাগর দোলুই নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাত ১০টা নাগাদ তেলিবেড়িয়া এলাকায় বসে মদ্যপান করছিলেন ভোলা ও সাগর। অভিযুক্ত সাগর পুলিশি জেরায় দাবি করেছে, মদ্যপান চলাকালীন ভোলা তার কাছে একটি বিড়ি চায়। সাগরের কাছে বিড়ি না থাকায় সে দিতে অস্বীকার করে। অভিযোগ, এরপরেই ভোলা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।

গালিগালাজকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, রাগের মাথায় সাগর ভোলাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কিল, চড় ও ঘুষি মারতে থাকে। মারের চোটে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ভোলা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতা ২ নম্বর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাকে ছেড়ে দেন।

সোমবার বাড়ি ফেরার পর ভোলা পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর এলাকায় পৌঁছাতেই বুধবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জয়পুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযুক্ত সাগর দোলুইয়ের একটি মুদিখানার দোকান রয়েছে, অন্যদিকে মৃত ভোলা পেশায় কৃষক ছিলেন।

যখন সাগর ভোলাকে বেধড়ক মারধর করছিল, তখন সেখানে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কেউ সেই সময় বাধা দিতে এগিয়ে আসেননি। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে সবাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে যান।জয়পুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত সাগর দোলুইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সামান্য বিড়ি নিয়ে বিবাদের জেরে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির: পদ্ম শিবিরে প্রাক্তন এনএসজি কর্তা ও কেবিসি বিজয়ী, যোগ দিলেন ক্ষিতি-কন্যাও

 ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই রাজ্যে বড়সড় সাংগঠনিক চমক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। মঙ্গলবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। যার মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য নাম প্রাক্তন এনএসজি (NSG) কর্তা দীপাঞ্জন চক্রবর্তী এবং ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ২০২৫’-এর বিজয়ী তথা প্রাক্তন সিআরপিএফ অফিসার বিপ্লব বিশ্বাস।


এদিন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন নবাগতরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক ডা. শঙ্কর ঘোষও।একই পরিবারে তিন ধারা

যোগদানকারীদের তালিকায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নাম হলো সুশ্রী কস্তুরী গোস্বামী। তিনি বাম আমলের দাপুটে মন্ত্রী তথা প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা। কস্তুরী দেবীর দিদি বসুন্ধরা গোস্বামী বর্তমানে তৃণমূলের কাউন্সিলর। ফলে বাবা ছিলেন বাম রাজনীতির কাণ্ডারি, এক মেয়ে তৃণমূল এবং অন্য মেয়ে বিজেপিতে— একই পরিবারে তিন ভিন্ন মেরুর রাজনৈতিক অবস্থান এখন রাজ্য রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।অন্যদিকে, প্রাক্তন এনএসজি আন্ডারকভার এজেন্ট দীপাঞ্জন চক্রবর্তী এবং সিআরপিএফ-এর অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি বিপ্লব বিশ্বাসকে দলে টেনে বিজেপি ‘সুরক্ষা ও জাতীয়তাবাদ’-এর বার্তাকে আরও সুসংহত করতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এছাড়া দীর্ঘদিনের আরএসএস ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ডা. অক্ষয় বিনজরাজকাও এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।

যোগদান মেলার পাশাপাশি এদিন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে “আঁধারের কত কথা” শীর্ষক একটি বই প্রকাশ করা হয়। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এই বইয়ে রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক প্রামাণ্য দলিল তুলে ধরা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত “মহাজঙ্গলরাজ”-এর স্বরূপ সাধারণ মানুষের সামনে আনতেই এই উদ্যোগ।

রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই যোগদান প্রমাণ করে যে রাজ্যের মানুষ ইতিবাচক পরিবর্তন চাইছেন।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতে, “নতুন সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে।

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

১২৩৩ জনের নিয়োগ কোথায়? সুপ্রিম কোর্টের রায় মানছে না পর্ষদ!"

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পালের পদত্যাগ এবং বকেয়া নিয়োগের দাবিতে সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সল্টলেক। পশ্চিমবঙ্গ NIOS D.El.Ed সংগ্রাম মঞ্চের ডাকে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী এদিন ‘বিকাশ ভবন চলো’ অভিযানে শামিল হন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ না হওয়া এবং বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের অভিযোগে সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা।


আন্দোলনকারীদের প্রধান ক্ষোভ ‘কৌশিক দাস বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, ২০২২-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১২৩৩ জন প্রার্থীকে ৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পর্ষদ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পর্ষদ সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে একটি ‘ব্যর্থতার খতিয়ান’ পেশ করা হয়েছে:

 ১২৩৩ জন যোগ্য প্রার্থীকে নির্দিষ্ট সময়ে নিয়োগ দিতে না পারা।

 মেধার বদলে ট্রেনিং প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণের নতুন নিয়ম তৈরি করা।

: NCTE-এর স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর নিয়মিত টেট পরীক্ষা নিতে ব্যর্থ হওয়া।

 পর্যাপ্ত শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও কম পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রার্থীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ।

"রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ধুঁকছে, আর যোগ্য প্রার্থীরা রাস্তায় বসে আছেন। পর্ষদ সভাপতি কেবল আশ্বাস দিয়েছেন, কাজ করেননি। তাই এক দফা এক দাবি— গৌতম পালের পদত্যাগ।" — সংগ্রাম মঞ্চের এক সদস্য।

আজকের অবস্থান বিক্ষোভ থেকে মূলত দুটি দাবি জোরালোভাবে করা হয়েছে:

১ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ১২৩৩ জন প্রার্থীকে দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান।

২.চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় NIOS D.El.Ed ক্যান্ডিডেটদের ইন্টারভিউতে বসার এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সমান সুযোগ দেওয়া।

এদিন দুপুর থেকেই বিকাশ ভবনের চারপাশ কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের হুমকি দিলেও প্রার্থীরা রাস্তার ওপরই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত বিকাশ ভবনের সামনে উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

Video Link --- 


সব খবর সবার আগে পেতে আজই আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব ও ফলো করুন। পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কলকাতা পুরসভায় ‘তপ্ত’ বাজেট অধিবেশন: ঘাটতি কমিয়ে উন্নয়নের খতিয়ান মেয়রের, ‘হাম্পটি-ডাম্পটি’ বলে কটাক্ষ বিরোধীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য কলকাতা পুরসভার বাজেট পেশ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মেয়রের দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ এই বাজেটে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও ঘাটতি সামাল দেওয়ার দাবি করা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই বিরোধীদের তীক্ষ্ণ আক্রমণ ও হট্টগোলে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরসভার অধিবেশন কক্ষ। বাজেট পেশের ধরুণ থেকে শুরু করে মেয়রের ভাষা— সব কিছু নিয়েই সরব হলেন বিজেপি ও বাম কাউন্সিলররা।


শুক্রবার পেশ করা বাজেটে দেখা যাচ্ছে, গতবারের তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা হলেও কমাতে পেরেছে পুরসভা।
* আয় ও ব্যয়: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫,৭৯১.৪৩ কোটি টাকা এবং ব্যয়ের বরাদ্দ ৫,৯০০২.৪৩ কোটি টাকা।
* ঘাটতি: গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) ঘাটতি ছিল ১১৪.৭২ কোটি টাকা। এবার তা ৩.৭২ কোটি টাকা কমিয়ে ১১১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
* রাজস্ব ও অনুদান: রাজ্য সরকারের অনুদান গতবারের ২,৮৯৭ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৩,১৩০ কোটি টাকা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো রাজস্ব আদায়, যা গত বছরের ১,৬৭১ কোটি থেকে বেড়ে এবার ২,৬৬১.৪৩ কোটিতে পৌঁছেছে (বৃদ্ধি ৯৯০.৪৩ কোটি টাকা)।

বাজেট পেশের সময় ফিরহাদ হাকিম শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন:
১. পরিকাঠামো: জল সরবরাহ, পয়ঃপ্রণালী, সড়ক সংস্কার ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর।
২. কালীঘাট স্কাইওয়াক: ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের সাফল্য উল্লেখ করেন তিনি।
৩. ই-পরিষেবা: নাগরিকদের যাতে সশরীরে পুরভবনে আসতে না হয়, তার জন্য ডিজিটাল পরিষেবায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
৪. সামাজিক প্রকল্প: শহরে নতুন করে ১ লক্ষ ২৭ হাজার মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আওতায় এসেছেন। বর্তমানে কলকাতায় মোট উপভোক্তার সংখ্যা ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার।
৫. সবুজ কলকাতা: শহরকে দূষণমুক্ত রাখতে ‘সবুজ পরিষেবা’ দেওয়ার অঙ্গীকার মেয়রের।
বিরোধীদের তোপ: ‘হাম্পটি-ডাম্পটি’ ও ‘বর্ণপরিচয়’ বিতর্ক
বাজেট পেশের শুরু থেকেই বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন যে মেয়র পরম্পরা ভেঙে বাজেট ভাষণ সম্পূর্ণ না পড়ে ‘জাম্প’ করে পড়ছেন।

বিজেপির ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সজল ঘোষ এই বাজেটকে ‘হাম্পটি-ডাম্পটি বাজেট’ বলে অভিহিত করেন। মেয়র যখন বলেন যে ভাষার বিচারে যেন কারও ওপর অত্যাচার না হয়, তখন সজল ঘোষ মেয়রের বাংলা ভাষা জ্ঞান নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, মেয়রের ‘বর্ণপরিচয়’ বই পাঠ করা প্রয়োজন। এছাড়াও তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের সংসদীয় আচরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূল বাঙালির অস্মিতা নিয়ে কথা বললেও তাদের সাংসদদের আচরণ বাংলাকে লজ্জিত করে।

বাম কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব এই বাজেটকে সম্পূর্ণ ‘নির্বাচনী মুখী’ বলে দাবি করেন। বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তথ্য পেশ করা নিয়ে তিনি আইনি ও নীতিগত প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, মেয়র বাজেট ভাষণ নিয়ম মেনে না পড়ে কেবল বেছে বেছে কিছু অংশ পড়েছেন।

প্রথম দিনেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের দ্বন্দ্বে অধিবেশন কক্ষ ছিল উত্তপ্ত। পরিস্থিতি বিচার করে চেয়ারপারসন মালা রায় এদিনের মতো অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। আগামী ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি ফের বাজেট অধিবেশন বসবে এবং তিন দিনব্যাপী এই আলোচনা চলবে।

Video Link - 


#dinkaalindia #KMCBudget2026 #KolkataMunicipalCorporation #FirhadHakim #KolkataBudget #KMCUpdate #UrbanDevelopment #FiscalDeficit #KolkataNews
#HumptyDumptyBudget #PoliticalTussle #SajalGhosh #OppositionVoice #BJPvsTMC #KMCWarOfWords #PoliticalClash #BengalPolitics
#LaxmiBhandar #DigitalKolkata #GreenKolkata #InfrastructureDevelopment #KalighatSkywalk #EServices #SocialWelfare #KolkataGovernance

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কেন্দ্রীয় ধর্মঘটে উত্তপ্ত ব্যারাকপুর: ব্যাঙ্ক পরিষেবা স্তব্ধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর: কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা ১২ই ফেব্রুয়ারির দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়ল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। সকাল থেকেই ধর্মঘটের সমর্থনে বাম ও সহযোগী সংগঠনগুলির কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় নামেন। ধর্মঘটের জেরে সবথেকে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা।


বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যারাকপুর স্টেশনের সংলগ্ন এলাকা, চিড়িয়ামোড় এবং টিটাগড় সংলগ্ন বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখার সামনে পিকেটিং শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ, বেশ কিছু জায়গায় জোরপূর্বক ব্যাঙ্কের ঝাঁপ ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে টাকা তোলা, জমা দেওয়া বা চেকের কাজের জন্য আসা সাধারণ গ্রাহকরা চরম হয়রানির শিকার হন। অনেক গ্রাহককেই ব্যাঙ্কের গেট থেকে ফিরে যেতে দেখা যায়।পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে কড়া পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও আন্দোলনকারীদের দমানো সম্ভব হয়নি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়ছে। ব্যারাকপুরের দুই হেভিওয়েট নেতার গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর:

অর্জুন সিং (বিজেপি নেতা):

​"এই ধর্মঘট পুরোপুরি জনবিরোধী। জোর করে ব্যাঙ্ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। উন্নয়নের গতি রুখতেই বামপন্থীরা এই নোংরা রাজনীতি করছে। মানুষ এই বন্ধ সমর্থন করে না।"

ভিডিও লিঙ্ক -- 


গার্গী চট্টোপাধ্যায় (সিপিআইএম নেত্রী):

​"কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি এবং শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদেই এই ধর্মঘট। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বন্ধ রেখে আমাদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন। লড়াইতে জেতা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।"​ধর্মঘটের জেরে ব্যারাকপুরের জনজীবন আংশিক ব্যাহত হলেও বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যাঙ্ক পরিষেবা আগামীকালকের আগে পুরোপুরি সচল হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন ----  


আক্রান্ত বিজেপি বিধায়কদের পরিবারের পাশে বিপ্লব দেব

বনগাঁর দুই বিজেপি বিধায়কের পরিবারের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আজ আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের সাহস জোগাতে বনগাঁয় পৌঁছালেন রাজ্য বিজেপি ইন-চার্জ তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

সম্প্রতি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া এবং বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদারের পরিবারের সদস্যদের ওপর দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ।এদিন বিপ্লব দেব সরাসরি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার বাড়িতে যান এবং তাঁর স্ত্রীর সাথে কথা বলেন। এরপর তিনি বিধায়ক স্বপন মজুমদারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর শাশুড়ির সাথেও দেখা করেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি বার্তা দিলেন যে, দলের কার্যকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের পরিবারের পাশে শক্ত হাতে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

পুরো ভিডিও দেখতে লিংকে ক্লিক করুন ----- 


সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ: নির্বাচনের আগের রাতে বনগাঁয় গ্রেফতার বাংলাদেশি যুবক

 বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার অভিযোগে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেফতার করল বনগাঁ থানার পুলিশ। বুধবার রাতে বনগাঁর মতিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।


​পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তির নাম উতঙ্ক গাইন। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলায়। বুধবার রাতে মতিগঞ্জ এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুবক স্বীকার করেন যে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। তবে ভারতে প্রবেশের স্বপক্ষে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা তিনি দেখাতে পারেননি।

​বাংলাদেশে নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যে ওই যুবকের ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে:

​ বৃহস্পতিবার ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

​ধৃতের আসল উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা জানতে পুলিশ ৫ দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন করেছে।

​ নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁর এই অনুপ্রবেশ কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ভিডিও লিংক ----

#Dinkaalindia #দিনকালইন্ডিয়া

#Bongaon #CrimeNews #BangladeshElection #BorderSecurity #BreakingNews #WestBengal

আইনি জাঁতাকলে চিংড়িঘাটা মেট্রো; উন্নয়নের অপেক্ষায় সাধারণের ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং পূর্ব কলকাতার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ইএম বাইপাসের ওপর মেট্রো প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু চিংড়িঘাটা মোড়ে মেট্রো পিলার নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)-এর মধ্যেকার সংঘাত এখন আদালতের আঙিনায়। কলকাতা হাইকোর্ট কাজ শুরুর নির্দেশ দিলেও রাজ্য সরকারের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকল্পের ভবিষ্যৎকে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


চিংড়িঘাটা মোড়টি কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। রাজ্য সরকারের যুক্তি হলো, এখানে মেট্রো পিলার তৈরির জন্য ট্রাফিক ডাইভারশন করলে চরম যানজট সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে, রেলের দাবি—দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক অনুমতির অপেক্ষায় কাজ থমকে আছে, যার ফলে প্রকল্পের খরচ এবং সময় দুই-ই বাড়ছে।সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, জনস্বার্থে এই প্রকল্পের কাজ আর থামিয়ে রাখা যাবে না। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। এই পদক্ষেপ কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে দেয়:

সমন্বয়ের অভাব: কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় থাকলে কি এই সমস্যা আদালত পর্যন্ত গড়াত?উন্নয়ন বনাম রাজনীতি: মেগা প্রজেক্টের ক্ষেত্রে কি সাধারণ মানুষের সুবিধার চেয়ে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ইগো বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে?মেট্রো প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ার অর্থ হলো কয়েক লক্ষ মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম দীর্ঘায়িত হওয়া।সময় ও অর্থের অপচয়: যানজটে প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

পরিবেশ দূষণ: থমকে থাকা যানবাহনের ধোঁয়ায় চিংড়িঘাটা চত্বরে দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি: অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ এবং যানজটের ফলে পথ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলোতে (যেমন দিল্লি বা বেঙ্গালুরু) যখন রেকর্ড সময়ে নতুন রুট চালু হচ্ছে, তখন কলকাতায় প্রশাসনিক টালবাহানায় কাজ থমকে থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। আদালতের বারংবার হস্তক্ষেপ আসলে প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবকেই চিহ্নিত করে। উন্নয়ন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় হতে পারে না। সমাধানের জন্য প্রয়োজন: 

যুগ্ম ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট: রাজ্য পুলিশ এবং রেল কর্তৃপক্ষকে বসে বিকল্প ট্রাফিক রুট চূড়ান্ত করতে হবে।

চিংড়িঘাটা মেট্রো সম্প্রসারণ শুধু কংক্রিটের কাঠামো নয়, এটি লক্ষাধিক মানুষের আধুনিক যাতায়াতের স্বপ্ন। আইনি মারপ্যাঁচে এই স্বপ্ন যেন বিশ বাঁও জলে না যায়, তার দায়িত্ব নিতে হবে প্রশাসনকেই। জনস্বার্থ রক্ষাই হোক সরকারের মূল লক্ষ্য।

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অডিট ফাইল জমা দিতে ভয় পাচ্ছে রাজ্য, হিসেবে বড় গরমিল: জিএসটি বকেয়া নিয়ে মমতাকে তোপ শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া জিএসটি (GST) পাওনা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত দীর্ঘদিনের। এই ইস্যুতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার সঠিক সময়ে অডিট ফাইল এবং ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা না দেওয়ার কারণেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে রয়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, "হিসেবের মধ্যে বড়সড় গরমিল রয়েছে, আর সেই কারণেই পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট জমা দিতে ভয় পাচ্ছে নবান্ন।"


​কেন্দ্রীয় সরকার বারবার দাবি করেছে যে, নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যগুলি যদি তাদের খরচের শংসাপত্র (Utilization Certificate) এবং এজি (AG) অডিট রিপোর্ট জমা না দেয়, তবে পরবর্তী কিস্তির টাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। শুভেন্দু অধিকারী এদিন সেই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেন। তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে গিয়ে বকেয়া টাকার দাবি জানাচ্ছেন, অথচ বাড়ির কাজ ঠিকমতো করছেন না। নথিপত্র যদি পরিষ্কার থাকে, তবে অডিট ফাইল জমা দিতে বাধা কোথায়?"

​বিরোধী দলনেতার দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে খরচ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, "ফান্ডের হিসেবে ব্যাপক গরমিল থাকার কারণেই রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরদারি এড়াতে চাইছে। হিসেবে স্বচ্ছতা থাকলে এতদিনে টাকা রাজ্যে চলে আসত। আসলে রাজ্যবাসীর সামনে দুর্নীতির কঙ্কাল বেরিয়ে আসার ভয়েই ফাইল চেপে রাখা হচ্ছে।"

​যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছে যে, তারা সমস্ত নিয়ম মেনেই হিসাব পাঠিয়েছে এবং টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কেন্দ্র অনেক সময় অজুহাত দিচ্ছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য সেই রাজনৈতিক তরজাকে আরও উসকে দিল। তার মতে, প্রশাসন সঠিক পথে চললে পাওনা টাকা পেতে কখনোই সমস্যা হতো না।সামনেই বেশ কিছু নির্বাচন এবং বাজেট পরবর্তী আবহে জিএসটি নিয়ে এই অভিযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার শুভেন্দুর এই অভিযোগের পাল্টা কী জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত অডিট ফাইল এবং জিএসটি বকেয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যে উত্তপ্ত থাকতে চলেছে, তা নিশ্চিত।

ভিডিও লিংক -- 


মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাষের জমিতে যাত্রীবাহী বাস, বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা

 নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাষের জমিতে যাত্রীবাহী বাস, বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা


​নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: মঙ্গলবার সকালে মেদিনীপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ল সাঁকরাইল থানার রগড়া এলাকায়। যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে চাষের জমিতে ঢুকে পড়ে। অল্পের জন্য বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাসে থাকা যাত্রীরা। ঘটনায় বাসের খালাসি আহত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে রগড়া থেকে মেদিনীপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে 'সম্রাট' নামের একটি যাত্রীবাহী বাস রওনা দেয়। রগড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটির স্টিয়ারিংয়ে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের একটি ধান খেতে নেমে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই জমিতে ধান চাষ চলছে এবং বৃষ্টির কারণে মাটি বেশ নরম ছিল। জমিতে চাকা বসে যাওয়ায় বাসটি উল্টে না গিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। মূলত মাটির এই নরম অবস্থার কারণেই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাসের কয়েক ডজন যাত্রী। কোনো যাত্রীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

​এই দুর্ঘটনায় বাসের খালাসি শংকর পাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাঁকরাইল থানার পুলিশ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটিকে উদ্ধার করতে ক্রেন আনা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য চাঞ্চল্য ছড়ালেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




পুলিশকে ঘরে বন্দি করার দুঃসাহস! সিউড়িতে ধৃত ৬, উত্তপ্ত এলাকা

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিউড়ি: আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে চরম হেনস্থার মুখে পড়ল পুলিশ। অভিযুক্তের পরিবারের হাতে পুলিশ কর্মীদের বন্দি হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।


পুলিশ সূত্রে খবর, একটি পুরনো মামলায় সিউড়ি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাতিম শাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় সিউড়ি থানার পুলিশ অভিযুক্তকে ধরতে তার বাড়িতে অভিযানে যায়। তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ কর্মীরা বাড়ির দোতলায় উঠতেই সুযোগ বুঝে হাতিম শাহর পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে দরজা আটকে দেয়। দীর্ঘক্ষণ পুলিশ কর্মীদের ঘরের ভেতর বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

​ঘটনার খবর থানায় পৌঁছাতেই সিউড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা গিয়ে আটকে পড়া পুলিশ কর্মীদের উদ্ধার করে। কর্তব্যে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকে বন্দি করার অপরাধে রাতেই অভিযান চালিয়ে পরিবারের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত হাতিম শাহর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।

​পুলিশের ওপর এই হামলার ঘটনায় সিউড়ি জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ধৃত ৬ জনকে আজই সিউড়ি আদালতে তোলা হবে। ঘটনার পেছনে আর কারা জড়িত এবং কেন এই ধরণের দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

ভিডিও লিংক --- 


বনগাঁ স্টেশনে পুলিশের অভিযান: ৯টি চোরাই মোবাইলসহ গ্রেপ্তার ঝাড়খণ্ডের ২ যুবক

নিজস্ব প্রতিনিধি, বনগাঁ: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বড়সড় সাফল্য পেল বনগাঁ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার বনগাঁ স্টেশন চত্বরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নয়টি দামী মোবাইল ফোনসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম শ্যাম কুমার রাম (২৭) এবং করণ কুমার মাহাতো (২১)। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দুই যুবকই ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা।বনগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা ‘বড়বাবু’র নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এদিন স্টেশনে হানা দেয়। সন্দেহভাজন হিসেবে ওই দুই যুবককে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ৯টি দামী স্মার্টফোন উদ্ধার হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ফোনগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বিল দেখাতে পারেনি তারা।


​পুলিশি জেরার মুখে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা মূলত বিভিন্ন ট্রেন থেকে যাত্রীদের মোবাইল ফোন চুরি করত। ঝাড়খণ্ড থেকে এসে সীমান্তবর্তী এই এলাকায় চোরাই মোবাইল বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা জমায়েত হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। একটি বড়সড় মোবাইল পাচার চক্রের সাথে তারা যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এবং এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত তা জানতে ধৃতদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে আগামীকাল বনগাঁ মহকুমা আদালতে পাঠানো হবে।

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

উত্তপ্ত ব্যারাকপুর: আদালত চত্বরে তুলকালাম, অর্জুন সিং-এর নেতৃত্বে বিজেপির বিক্ষোভ।

 উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৮১ বছর বয়সী বৃদ্ধা তুলসী অধিকারীকে মারধর ও তার জেরে মৃত্যুর ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়াল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে আজ ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করল পুলিশ।


​গতকাল এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে শাসকদলও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। ব্যারাকপুর থানা প্রথমে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গ্রেফতার করে।

​আজ পুলিশ কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অভিযুক্তকে আদালতে তোলে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মোট চারটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে:

১০৩(১): খুনের ধারা (জামিন অযোগ্য)।

১১৫(২), ১২৬(২), এবং ৩৫১(২): অন্যান্য অপরাধমূলক ধারা।

​এদিন অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে ব্যারাকপুর চিড়িয়া মোড়ে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভ করেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে আদালতের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি বাধে। এর ফলে সাময়িকভাবে রাস্তা অবরোধ হলেও পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিজেপি কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

​বিজেপির অভিযোগ, বৃদ্ধা খুনের নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ভিডিও লিংক ------


রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রসেনজিতের বাড়ি গিয়ে রামমূর্তি উপহার সুকান্তর, ভোটের আগে বাড়ছে জল্পনা

শনিবার সকাল সকালই সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়ের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাক্তন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও। 


আর সে খবর ছড়িয়ে পড়তেই টলিউডে শোরগোল। তাহলে কী ভোটের আগে প্রসেনজিৎকে ঘিরে নতুন কোনও সমীকরণ দেখতে চলেছে টলিপাড়া? এই উত্তর পাওয়া না গেলেও, জানা গিয়েছে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের শনিবারের এই সাক্ষাৎ ছিল একেবারেই সৌজন্যমূলক। বরং অভিনেতা পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ায়, প্রসেনজিৎকে শুভেচ্ছা জানাতেই তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন সুকান্ত ও রুদ্রনীলরা।এদিন প্রসেনজিতের হাতে একটি রামলালার মূতি তুলে দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বেশ কিছুক্ষণ প্রসেনজিতের বাড়িতে ছিলেন সুকান্ত ও রুদ্রনীল। সিনেমা জগত, অভিনয় নিয়ে মূলত তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হালকা মেজাজেই উঠে এসেছে রাজ্য ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথাও।উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগে টলিউডের প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালী শুনিয়েছিলেন। আর এবার প্রসেনজিতের বাড়িতে সুকান্তের যাওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।টলিউডের বুম্বাদার বাড়িতে থেকে বেরিয়ে সুকান্ত জানালেন, ”এই সাক্ষাৎ একেবারেই রাজনৈতিক নয়। সব কিছুর পিছনে রাজনীতি না খোঁজাই ভালো। শিক্ষা, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে রাজনীতি না করাই ভালো। পদ্মশ্রী পাওয়ার জন্য প্রসেনজিৎকে সংবর্ধনা জানাতেই এসেছিলাম। সিনেমা হলেও তাঁর নতুন ছবি দারুণ ব্যবসা করছে। উত্তরোত্তর তাঁর শ্রীবৃদ্ধি হোক।” 

ভিডিও লিংক - 


শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আনন্দপুরের ছায়া মহেশতলায়? অগ্নিকাণ্ড রুখতে নুঙ্গির বাজি বাজারে প্রশাসনের মেগা তল্লাশি

 আনন্দপুরের ছায়া মহেশতলায়? অগ্নিকাণ্ড রুখতে নুঙ্গির বাজি বাজারে প্রশাসনের মেগা তল্লাশি

নিজস্ব প্রতিনিধি, মহেশতলা: আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আর তার পরবর্তী বীভৎস মৃত্যুমিছিল দেখেছে গোটা রাজ্য। গোডাউনের আগুনে পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের দেহাংশ উদ্ধারের সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাজি শিল্পের প্রাণকেন্দ্র মহেশতলার নুঙ্গিতে চলল ব্যাপক প্রশাসনিক পরিদর্শন।

ভিডিও লিংক --